শিরোনাম
◈ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল ◈ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ঘণ্টায় গড় আয় ২০ ডলারের বেশি ◈ সৌদি আরবের স্বাস্থ্য খাতে ৪ হাজার ২৯১ চাকরি, বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন? ◈ হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চান তারেক রহমান ◈ জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন ◈ প্রতিবেশী দেশের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ◈ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: তারেক রহমান ◈ ‘জায়গা ভাড়া দিয়েছি, অবৈধ কর্মকাণ্ডের দায় আমার নয়’: অতিরিক্ত ডিআইজি আল জহির ◈ ভারতের আম্বানির রিলায়েন্সের তেল শোধনাগারে রুবিওর সফর কেন? ◈ সৌদি আরবের রাজধানীতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ, জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০১৭, ০৬:৩১ সকাল
আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০১৭, ০৬:৩১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনকে স্বীকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কোকে অভিনন্দন: অনিল দাশ গুপ্ত

ফারুক নওয়াজ খান সুমন, প্যারিসে থেকে:  জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষনকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় সংস্থাটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাশ গুপ্ত। এক বিবৃতিতে অনিল দাশ গুপ্ত বলেন, সত্যকে কখনো চেপে রাখা যায় না। বাঙ্গালী জাতি এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পিছনে যে ভাষন সবচেয়ে বেশী ভুমিকা রেখেছিলো তাকে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো ইতিহাসের প্রতি সুবিচার করেছে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা যে ভাষন দিয়ে একটি দেশের স্বাধীনতা লাভের পথ সুগম করেছিলেন সেটা এখন বিশ্বের সবাই জানতে পারলো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির আকাশে কলঙ্ক একে দিয়েছিলো স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র। যে ভাষনের জন্য সমগ্র বাঙ্গালী জাতি এক হয়ে রনাঙ্গনে ঝাপিয়ে পড়ে দীর্ঘ নয় মাসের রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিলো বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সে ভাষন প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। আজ ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে প্রমান করলো সত্যকে চেপে রাখা যায় না।

এ স্বীকৃতি সমগ্র বাঙ্গালী জাতির অর্জন বলে মনে করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক। প্রসঙ্গত, ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা সেদিন ছিল মিছিলের শহর। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ পায়ে হেঁটে, বাস-লঞ্চে কিংবা ট্রেনে চেপে রেসকোর্স ময়দানে সমবেত হয়েছিলেন।
ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল বিশাল ময়দান। মুহুর্মুহু গর্জনে ফেটে পড়েছিলেন উত্থিত বাঁশের লাঠি হাতে সমবেত লাখ লাখ বিক্ষুব্ধ মানুষ। বাতাসে উড়ছিল বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল সূর্যের অসংখ্য পতাকা। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি আর হাতাকাটা কালো কোট পরে বাঙালির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু সেদিন দৃপ্তপায়ে উঠে আসেন রেসকোর্সের মঞ্চে। মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে আকাশ-কাঁপানো স্লোগান আর মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান অপেক্ষমান জনসমুদ্রের উদ্দেশে। তারপর শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক ভাষণ।

তিনি বলে চলেন- . আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।
বঙ্গবন্ধু বলেন, ..সৈন্যরা, তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না।উত্তাল জনসমুদ্র যখন স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে উদগ্রীব, তখন এরপর বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেন তার চূড়ান্ত  আদেশ- তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব- এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।

মাত্র ১৯ মিনিটের সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে তুলে দেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়। এতে সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্যবাহিনীর ব্যারাকে প্রত্যাবর্তন, শহীদদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চার দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি।রেসকোর্স ময়দান থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরাসরি প্রচারের সব আয়োজন ছিল ঢাকা বেতার কর্তৃপক্ষের। প্রচার শুরুও হয়েছিল। কিন্তু সামরিক কর্তৃপক্ষ প্রচার বন্ধ করে দিলে বেতারের সব বাঙালি কর্মচারী বেতার ভবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের সম্প্রচার কার্যক্রম।ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব। গভীর রাতে অবশ্য সামরিক কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ ভাষণ সম্প্রচারের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়।

  • সর্বশেষ