শিরোনাম
◈ উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নিখুঁত হামলা, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনা ◈ গণপিটুনিতে ৯ মাসে ১৭১ মৃত্যু, ‘মব’ কি সংঘবদ্ধ অপরাধের নতুন কৌশল? ◈ প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের বাজারেও বাড়ছে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা ◈ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব গড়তে চায় বিএনপি ◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি

প্রকাশিত : ০৯ মার্চ, ২০২৩, ০১:৪০ দুপুর
আপডেট : ০৯ মার্চ, ২০২৩, ০১:৪০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

অধিকার নিয়ে তালিবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়েছিলেন এক নারী

ফৌজিয়া কোফি

ইমরুল শাহেদ: আফগান সরকারের হয়ে তালিবানের সঙ্গে যারা আলোচনা চালিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন এক নারী। তার নাম ফৌজিয়া কোফি। তালিবানের কারণে একসময় তাকে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল। তার স্বামীকে তালিবানরা হত্যা করেছিল। তাতে ভয় না পেয়ে তালিবানের সঙ্গে মেয়েদের অধিকার নিয়ে আলোচনা চালিয়েছেন তিনি। দি ওয়াল

ফৌজিয়া কোফির ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবেন। ডাক্তারি পড়তে ভর্তিও হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে তালিবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসে। ফৌজিয়া মনে করতে পারেন, ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি প্রথমবার তালিবান সৈনিকদের দেখেছিলেন। তিনি তখন থাকতেন কাবুলের এক বহুতলের ছ’তলার ফ্ল্যাটে। সেখান থেকে দেখেছিলেন, রাস্তায় লড়াই চলছে। তালিবান যোদ্ধাদের হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল।

তার কিছুদিনের মধ্যেই তালিবান মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। ফৌজিয়া তখনও কাবুলেই বাস করতে থাকেন। যে মেয়েদের স্কুলের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাদের তিনি প্রাইভেটে ইংরেজি শেখাতেন। পরে বলেছেন, ‘সেই দিনগুলি ছিল খুব হতাশাচ্ছন্ন।’

তালিবান ডিক্রি জারি করেছিল, প্রত্যেক মহিলাকে বোরখা পরতে হবে। তারা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে দেখত কোনও মেয়ে বোরখা ছাড়া রাস্তায় বেরিয়েছে কিনা। তেমন দেখলে সেই মেয়েকে মারধর করত। ফৌজিয়া বলেছেন, ‘আমি কখনও বোরখা কিনিনি। আমি মনে করি না বোরখা আফগানিস্তানের সংস্কৃতির অঙ্গ।’ বোরখা না পরার জন্য ফৌজিয়ার রাস্তায় বেরোন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

তালিবানের পতন হলে মহিলারা সকলেই আনন্দিত হয়েছিলেন। কারণ তারা রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার ফিরে পেলেন। ততদিনে ফৌজিয়ার স্বামী মারা গিয়েছেন। দু’টি শিশুকন্যাকে নিয়ে তিনি থাকতেন কাবুলেই। চাকরি করতেন জাতিসংঘে। শিশু সৈনিকদের পুনর্বাসন দেওয়ার কাজ করতেন।

পরে আফগান সরকার তালিবানের সঙ্গে আলোচনার জন্য যে প্রতিনিধিদের পাঠায়, তাদের মধ্যে ছিলেন ফৌজিয়া। তালিবানের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ফৌজিয়া বলেন, মস্কোর এক হোটেলে আলোচনা হয়েছিল। তার কথায়, ‘আমি তালিবানের প্রতিনিধিদের বললাম, আফগানিস্তানের মানুষ বৈচিত্র্যে বিশ্বাস করেন। তারা চান না কোনও এক বিশেষ মতাদর্শের অনুগামীরা দেশ শাসন করুক।’ তিনি যখন কথা বলছিলেন, তালিবানের একজন প্রতিনিধি নোট নিচ্ছিলেন। বাকিরা তাকিয়েছিলেন অন্যদিকে। পরে তালিবান বলে, তারা আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয়। কারণ এই সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চাপে তারা আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়।

আইএস/এইচএ

  • সর্বশেষ