রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য পরিচিত হাতিরঝিল-এর ভেতরে অবস্থিত একটি কৃত্রিম দ্বীপ বর্তমানে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে আলোচনায় এসেছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল এটিকে প্রাণ-প্রকৃতির জন্য একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা। তবে বাস্তবে দ্বীপটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন একটি এলাকায় পরিণত হয়েছে, যেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার কথা থাকলেও নকশা লঙ্ঘন করে সেখানে প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ ও ৬ মিটার প্রশস্ত একটি পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে লেকের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং কিছু এলাকায় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দ্বীপে সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ১৫০০ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং সোলার সিস্টেমসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যা মূল পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
স্থপতি ইকবাল হাবিব-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বীপটি সাপ, ব্যাঙ, কেঁচো ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য একটি প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ঝোপঝাড়ের আড়ালে মাদকসেবনের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সিগারেটের প্যাকেট, প্লাস্টিক পোড়ানোর চিহ্ন এবং রাসায়নিক পদার্থের খালি কন্টেইনার ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে দ্বীপটি অভয়ারণ্য না হয়ে বরং একটি অনিয়ন্ত্রিত ডাম্পিং এলাকায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজউক-এর চেয়ারম্যান জানান, হাতিরঝিলকে মূল নকশায় ফিরিয়ে আনতে দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত রাস্তা অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাস্তা অপসারণ করলে সেখানে থাকা অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হতে পারে।
এর আগে ২০২০ সালে পানি প্রবাহ রক্ষার স্বার্থে হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত বিজিএমইএ ভবন অপসারণ করা হয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজউক নিজেদের তৈরি এসব স্থাপনা অপসারণে কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সূত্র: চ্যানেল ওয়ান নিউজ