কেউ মেসেজ পাঠানোর পর সেটি আপনি খোলার আগেই মুছে দিলে স্বাভাবিকভাবেই আর বার্তাটি পড়ার সুযোগ থাকে না। তবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমন একটি বিল্ট-ইন সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে আগে থেকে সেটিংসটি চালু থাকলে মুছে ফেলা মেসেজের নোটিফিকেশনে দেখা অংশ পরে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
এই সুবিধার নাম নোটিফিকেশন হিস্টোরি। ফোনে আসা নোটিফিকেশনের রেকর্ড নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এখানে দেখা যায়। ফলে হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস বা অন্য মেসেজিং অ্যাপ থেকে আসা কোনো বার্তার নোটিফিকেশন পরে মুছে গেলেও তার কিছু অংশ নোটিফিকেশন হিস্টোরিতে থেকে যেতে পারে।তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি মেসেজ মুছে যাওয়ার আগে থেকেই নোটিফিকেশন হিস্টোরি চালু থাকতে হবে। পরে এই ফিচার চালু করলে আগের নোটিফিকেশন ফিরে পাওয়া যাবে না।
নোটিফিকেশন হিস্টোরি চালু করবেন যেভাবে
ফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী সেটিংসের নাম বা অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে।
একবার চালু করার পর ফোনে আসা নোটিফিকেশনের তথ্য এখানে জমা হতে শুরু করবে।
মুছে যাওয়া মেসেজের অংশ দেখবেন যেভাবে
কোনো মেসেজ আসার পর সেটি প্রেরক মুছে ফেললে কিংবা আপনি ভুল করে নোটিফিকেশন সরিয়ে ফেললে ফোনের সেটিংস > নোটিফিকেশন > নোটিফিকেশন হিস্টোরিতে যেতে পারেন। সেখানে সম্প্রতি আসা নোটিফিকেশনগুলোর তালিকা দেখতে পাবেন। যে মেসেজিং অ্যাপ থেকে বার্তাটি এসেছিল, সেটির নোটিফিকেশন খুঁজে দেখলেই আগে প্রদর্শিত লেখার কিছু অংশ পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ মেসেজটি অ্যাপ থেকে মুছে গেলেও নোটিফিকেশনে যে অংশটি আগে দেখা গিয়েছিল, সেটি নোটিফিকেশন হিস্টোরিতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মুছে যাওয়া মেসেজ কি দেখা যাবে?
না। এই সুবিধার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, নোটিফিকেশন হিস্টোরি আগে থেকে চালু না থাকলে পুরোনো মেসেজের নোটিফিকেশন এখানে পাওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, নোটিফিকেশনে যতটুকু লেখা দেখানো হয়েছিল, সাধারণত তার বেশি তথ্য এখানে পাওয়া যায় না। তাই দীর্ঘ কোনো মেসেজের সম্পূর্ণ অংশ দেখা নাও যেতে পারে।
এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নোটিফিকেশন হিস্টোরি সাধারণত সীমিত সময়ের নোটিফিকেশন সংরক্ষণ করে। অনেক ডিভাইসে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নোটিফিকেশন দেখা যায়। ফলে পুরোনো কোনো মেসেজের তথ্য খুঁজতে দেরি করলে সেটি আর পাওয়া নাও যেতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, সব অ্যাপ বা সব ধরনের নোটিফিকেশনের ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। ফোনের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ও নির্মাতার সফটওয়্যারের ওপরও সুবিধাটির আচরণ নির্ভর করতে পারে।
তাই গুরুত্বপূর্ণ কোনো নোটিফিকেশন ভুল করে মুছে ফেললে আগে নোটিফিকেশন হিস্টোরিতে একবার দেখে নিতে পারেন। তবে এটিকে ডিলিট হওয়া মেসেজ পুরোপুরি উদ্ধার করার উপায় না ভেবে নোটিফিকেশনে আগে দেখা তথ্য খুঁজে পাওয়ার একটি সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করাই ঠিক।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া