শিরোনাম
◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ◈ বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া দেড়গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন দল ◈ সোমবার বগুড়ায় যাত্রা, ‘ই-বেইল বন্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪২ সকাল
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মহাবিশ্বে এলিয়েন খুঁজতে নতুন কৌশল নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা

পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে কোনো গ্রহে কি মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণী আছে– এমন একটা প্রশ্নের জবাব পেতে বিজ্ঞানীরা রাতদিন এক করে চলেছেন। কিন্তু যুগে যুগে তাদের অন্তহীন চেষ্টা একই পদ্ধতিতে আবর্তিত– ওই প্রাণী টিকে থাকার জন্য সম্ভাব্য গ্রহটিতে পানি আছে কিনা, বাতাসে অক্সিজেন আছে কিনা, তাপমাত্রা ঠিক আছে কিনা। কিন্তু এবার ভিন গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী শনাক্তে নতুন কৌশলের দিকে হাঁটছেন বিজ্ঞানীরা। 

মূলত মানুষ কল্পনার প্রাণীটিকে তার নিজের আদলে দেখতেই পছন্দ করে। দূর গ্রহের সম্ভাব্য প্রাণীটি দেখতে খরগোশের মতো কি হতে পারে না? কিংবা এর প্রতিটি হাতে ১৪টা আঙুল, ধাতবের দেহ? তার আসলে অক্সিজেনের প্রয়োজনই হয়তো হয় না! কার্যত মানুষের কল্পনা এমনটা ভাবতে সহায়তা করে না।

টোকিও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের আর্থ-লাইফ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হ্যারিসন বি. স্মিথ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর বেসিক বায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক লানা সিনাপায়েনের নেতৃত্বে একটি দল পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানে একটি নতুন কৌশল উপস্থাপন করেছেন। নির্দিষ্ট জৈবিক সংকেত খোঁজার পরিবর্তে তাদের এ পদ্ধতি বিভিন্ন গ্রহগুচ্ছের মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করে। এ ধারণা জ্যোতির্জীববিজ্ঞানের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দেয়, বিশেষ করে সেসব ক্ষেত্রে যেখানে প্রচলিত জৈব-সংকেতগুলো অস্পষ্ট বা অবিশ্বস্ত।

মহাজাগতিক প্রাণের সন্ধানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দূরবর্তী গ্রহগুলোতে পর্যবেক্ষণ করা বৈশিষ্ট্যগুলো সত্যিই জীবন্ত প্রাণীর অস্তিত্ব নির্দেশ করে কিনা, তা নির্ধারণ করা। সাধারণ জৈব-সংকেত, যেমন– কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডলে থাকা নির্দিষ্ট গ্যাস কখনও কখনও অজীব প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও তৈরি হতে পারে। ফলে ভুল ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে এ সম্পর্কে আরও তথ্য হয়তো পাওয়া যায়। 

এসব সমস্যা সমাধানে গবেষকরা একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ খুঁজছিলেন। স্বতন্ত্র গ্রহের ওপর মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে তারা যাচাই করছেন– পুরো একটি মহাজাগতিক অঞ্চলজুড়ে প্রাণের ব্যাপক প্রভাবের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব কিনা। বিজ্ঞানীরা এ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন ‘অ্যাগনস্টিক বায়োসিগনেচার’। 

গবেষণা দলটি বলছে, তাদের পদ্ধতি জীবন কী বা কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে বিশদ জ্ঞানের ওপর নির্ভর করার বিষয়টি এড়িয়ে চলে। এ পদ্ধতি দুটি সাধারণ ধারণার ওপর নির্মিত– জীবন এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে চলাচল করতে পারে এবং এটি যে পরিবেশে বাস করে, তা ধীরে ধীরে পরিবর্তন করে।

ধারণাটি পরীক্ষার জন্য গবেষকরা একটি মডেল তৈরি করেছেন। কীভাবে জীবন নক্ষত্রমণ্ডলজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং গ্রহের বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করতে পারে, মডেলটি তা বিশ্লেষণ করতে পারে। যদি দেখা যায়, জীবন ছড়িয়ে পড়ছে ও গ্রহগুলো পরিবর্তন হচ্ছে, তাহলে সেখানে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বিবেচনা করা হবে। নতুন পদ্ধতি সম্পূর্ণতার চেয়ে নির্ভুলতার ওপর বেশি জোর দেয়। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভুল শনাক্তকরণের হার কমানো যায়। 

গবেষক হ্যারিসন বি. স্মিথ বলেন, ‘জীবন কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে ও পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে, তার ওপর মনোযোগ দিয়ে আমরা একটি নিখুঁত সংজ্ঞা বা একটি মাত্র সুনির্দিষ্ট সংকেতের প্রয়োজন ছাড়াই এর সন্ধান করতে পারি।’ আরেক গবেষক লানা সিনাপায়েন বলেন, ‘অন্যত্র জীবন যদি পৃথিবীর জীবন থেকে মৌলিকভাবে ভিন্নও হয়, তবুও এর বৃহৎ পরিসরের প্রভাব– যেমন গ্রহগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ও সেগুলোকে পরিবর্তন করা, শনাক্তযোগ্য চিহ্ন রেখে যেতে পারে। এটাই এ পদ্ধতিটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।’

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়