যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘অতিরঞ্জিত দাবি’ ও ‘অবাস্তব প্রত্যাশার’ প্রতিবাদ জানিয়ে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। আজ রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
ইরনা জানিয়েছে, তেহরান এই আলোচনায় অংশ না নেওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু আচরণকে দায়ী করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো হলো—
১. ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে মাত্রাতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবিদাওয়া।
২. পরিস্থিতির তুলনায় অবাস্তব প্রত্যাশা।
৩. আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ক্রমাগত পরিবর্তন।
৪. বারবার স্ববিরোধী বক্তব্য প্রদান।
৫. চলমান নৌ অবরোধ।
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। একদিকে অবরোধ বহাল রাখা, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া মূলত একটি বৈপরীত্য, যা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে।
এর আগে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় কোনো প্রতিনিধিদল পাঠাবে না ইরান। তাসনিম নিউজের এক সংবাদদাতা জানান, ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বন্দরে যতক্ষণ মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না তেহরান।
এদিকে, আগামীকাল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠককে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে প্রচার করলেও ইরানের এই সিদ্ধান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে।