শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৩৯ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খেতেই নষ্ট তরমুজ, বাজারে ধস মূলধন হারিয়ে দিশেহারা বাউফলের চাষিরা

নিনা আফরিন, পটুয়াখালী : মাঠভরা তরমুজ, কিন্তু নেই ক্রেতা। বাজারে দাম নেই, ফলে খেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে পাকা তরমুজ। এমন অবস্থায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তরমুজ চাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অধিক উৎপাদন, রোগের প্রাদুর্ভাব, বাড়তি খরচ আর পরিবহন সংকট সবমিলিয়ে এবার মৌসুমটি চাষিদের জন্য হয়ে উঠেছে লোকসানের।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে বাউফলে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। অধিক লাভের আশায় নতুন অনেক চাষি এ আবাদে যুক্ত হলেও চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদনের কারণে বাজারে দামের ধস নেমেছে।

চাষিদের ভাষ্য, রমজানের শুরুতে বাজারদর ভালো থাকলেও তখন তরমুজ পরিপক্ক হয়নি। ঈদের পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ তরমুজ বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি ও ক্রেতা কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দর দ্রুত কমে যায়। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ও সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়, যা চাষিদের লোকসান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চাষি মো. লোকমান হোসেন ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ করে চাষ করা ফসল থেকে আয় হয়েছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। গামি স্টেমবাইট রোগে তার প্রায় ৭ হাজার ৫০০ গাছ নষ্ট হয়েছে।

Advertisement

তিনি বলেন, “খরচ সামলানোই কঠিন হয়ে গেছে। শেষে বাজারে দাম না পেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

প্রথমবার তরমুজ চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চর কালাইয়া এলাকার চাষি মো. শাহিন প্যাদা। ৫ একর জমিতে আবাদ করা তার খেতের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গাছ অজানা রোগে মারা যায়। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে তার।

চন্দ্রদ্বীপের আরেক চাষি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঈদের আগে ১০০ পিস তরমুজ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও ঈদের পর তা নেমে আসে মাত্র ৭ হাজার টাকায়। এতে তার প্রায় ১৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, বাউফলের চরাঞ্চলে গত এক দশকে তরমুজ চাষ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া অতিরিক্ত আবাদই এবার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭০ শতাংশ চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত আবাদ এবং সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ কমাতে না পারলে ভবিষ্যতেও চাষিদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

  • সর্বশেষ