শিরোনাম
◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ◈ বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া দেড়গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন দল ◈ সোমবার বগুড়ায় যাত্রা, ‘ই-বেইল বন্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কিশোরগঞ্জের ধনু নদীতে বালু বাণিজ্যের মহোৎসব : হুমকির মুখে ২০ হাজার পরিবার

ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ধনু নদীতে মাছ ধরার আড়ালে ড্রেজিং বোট লাগিয়ে চলছে বালু বাণিজ্যের মহোৎসব। এ ঘটনায় ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী অন্তত ২০ হাজার পরিবার ও ফসলি জমি। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তীব্র নদীতীর ভাঙনেরও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগে জানা যায়, করিমগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী ইটনা উপজেলার কয়রা তেলনী এবং নিকলী উপজেলার সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ৩৪০ একর ২৪ শতাংশ আয়তনের 'উজান ধনু জলমহাল নামে ইজারা নিয়ে এমন পরিবেশবিনাশী কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে প্রভাবশালী ইজারাদার সিন্ডিকেটের লোকজন।

তারা করিমগঞ্জের বালিখোলা ফেরিঘাটসংলগ্ন সুতারপাড়া গ্রামের সম্মুখভাগসহ বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি ড্রেজিং বোট লাগিয়ে ধনু নদী থেকে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন অসংখ্য নৌকাযোগে বিভিন্ন স্থানে পাচার ও লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে। ফলে সুতারপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের জনবসতি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে ডোবা-নালায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা শেষে শুকনো মৌসুমে নদীতীরের জমিতে তারা ধান, আলু, ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবের কারণে এসব জমি দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা ভুক্তভোগী মানিক মিয়া দাবি করেন, প্রভাবশালী ওই জলমহাল ইজারাদারের বালুদস্যু সিন্ডিকেট ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ একর জমি দখলে নিয়ে গেছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্মিলিত সিন্ডিকেট নির্বিবাদে এমন তুঘলকি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

নূরুজ্জামান নামে এক অধিবাসীর দাবি, নদী ইজারা নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবাধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন-বিক্রির মহোৎসব চলছে। মোহাম্মদ আশরাফ নামের ভুক্তভোগীর দাবি, ড্রেজিং বোট লাগিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বিঘার পর বিঘা জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে নদীভাঙনের গতি। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিল্পিরই বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় অধিবাসী আলতাফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে বালু উত্তোলনের ফলে নদী এখন বসতভিটার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর যদি ১০০ থেকে ২০০ ফুট করে নদীভাঙন অব্যাহত থাকে, তবে অচিরেই ২০ হাজার পরিবারের এ জনপদ একসময় মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে।

সুতারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জাহিদুর হক জানান, নদী ইজারা দেওয়া হয়েছিল মাছ ধরার জন্য। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এ কাজে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। স্থানীয় মানুষ এর স্থায়ী সমাধান চায়।

এ বিষয়ে উজান ধনু জলমহাল ইজারাদারের অন্যতম শরিক নৃপেন্দ্র বর্মণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সুতারপাড়া ইউনিয়নের রায়জানি দাইর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে উজান ধনু জলমহালটি প্রতিবছর ৪৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ধার্য করে পাঁচ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হয়েছে। এই ইজারার সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন দল-মতের হিন্দু-মুসলিম ৯ জন অংশীদার রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জলমহালটির পলি পড়ে ভরাট জায়গাগুলো খননের অনুমতি নেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। তবে এসব জায়গা খননের পর বালু-মাটি বিক্রির কোনো অনুমতি আছে কি না-এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে পরিবেশের ক্ষতি করা হলে প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়