প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে আসা অত্যন্ত শক্তিশালী মেগা-লেজার সংকেত শনাক্ত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা। মহাকাশে দীর্ঘ পথ পাড়ি আসা এই সংকেত পৃথিবীতে পৌঁছানোর পরও তীব্রতা হারায়নি। ফলে গভীর মহাকাশ থেকে আসা মহাজাগতিক সংকেতটি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে শনাক্ত করা হয় সংকেতটি।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সময় মহাজাগতিক সংকেতগুলো মহাকাশের ধূলিকণা ও গ্যাসে বাধা পেয়ে দুর্বল বা বিকৃত হয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেত দীর্ঘ ৮০০ কোটি বছরের যাত্রা সত্ত্বেও তার উজ্জ্বলতা বজায় রেখে পৃথিবীতে ধরা দিয়েছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় এই সংকেতকে বলা হয় হাইড্রক্সিল মেগামেজার। এটি মূলত মাইক্রোওয়েভ বিকিরণের একটি প্রাকৃতিক রূপ, যা লেজারের মতোই কাজ করে, তবে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, যখন দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, তখন সেখানকার গ্যাস প্রচণ্ড চাপে সংকুচিত হয়। এই চাপের ফলে হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তীব্র বিকিরণ নির্গত করতে শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, মহাজাগতিক সংকেতটি হ্যাটলাস নামের গ্যালাক্সি সিস্টেম থেকে এসেছে। সংকেতটির তীব্রতা এতই বেশি যে একে সাধারণ মেগামেজারের বদলে গিগামেজার হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে।
মহাকাশ থেকে ভেসে আসা মেগা-লেজার সংকেতের বিষয়ে বিজ্ঞানী থাতো মানামেলা বলেন, ‘আমরা মহাবিশ্বের প্রায় অর্ধেক পথ দূর থেকে আসা একটি লেজার রশ্মির রেডিও সংস্করণ পর্যবেক্ষণ করছি। সংকেতটির উৎসের সামনে থাকা একটি গ্যালাক্সি অনেকটা বিবর্ধক কাচের মতো কাজ করেছে। সেই গ্যালাক্সির অভিকর্ষ বল সংকেতটিকে আরও ঘনীভূত ও শক্তিশালী করে তুলেছে, যার ফলে এত দূর থেকে আসা সত্ত্বেও পৃথিবীতে এটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।’
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া