শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্টার্টআপ এক্সএআই থেকে কেবল দুই দিনের ব্যবধানে পদত্যাগ করেছেন দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা।
মঙ্গলবার মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এক্সএআই ছেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রভাবশালী গবেষক জিমি বা। মাস্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “শুরুর দিকে কোম্পানিটির সহ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।”
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি লিখেছে, কোম্পানিটির আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা টনি উ নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণার ঠিক এক দিন পরেই জিমির বিদায়ের খবরটি এল। এ মাসেই মাস্কের মহাকাশ গবেষণা কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সঙ্গে একীভূত হয়েছে এক্সএআই।
এআই কোম্পানির সহ প্রতিষ্ঠাতাদের চলে যাওয়ার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন এ বছরের কোনো এক সময়ে শেয়ার বাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসএক্স।
কোম্পানিটির ‘গ্ৰক ভার্সন ৪’ এআই মডেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কৃতিত্ব দেওয়া হয় ‘ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো’র অধ্যাপক জিমি বা’কে।
জিমি বা ও টনি উ ছাড়াও মাস্কের এআই কোম্পানটি ছেড়েছেন গিয়েছেন আরও কয়েকজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ইগর বাবুশকিন, কাইল কোসিক ও ক্রিশ্চিয়ান সেগেডি।
এ ছাড়া, গত মাসে গ্রেগ ইয়াং ঘোষণা করেছিলেন, লাইম ডিজিজ-এর সঙ্গে লড়াইয়ের কারণে এক্সএআইতে নিজের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।
সিএনবিসি’র দেখা নথি অনুসারে, রেকর্ড তৈরিকারী এ ‘অল-স্টক’ চুক্তিতে স্পেসএক্স-এর বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ও এক্সএআইয়ের মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি ডলার।
এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চে ঘোষিত অন্য এক চুক্তিতে মাস্ক একইভাবে শেয়ার বিনিময়ের মাধ্যমে এক্সএআইয়ের অধীনে নিয়ে এসেছিলেন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সকে।
এআই কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতাদের এ চলে যাওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এসব তদন্ত মূলত শুরু হয়েছে কোম্পানিটির এআই চ্যাটবট গ্ৰক ও ইমেজ জেনারেটর ব্যবহার করে মানুষের অনুমতি ছাড়া ডিপফেইক ছবি তৈরি ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম। এসব ছবির মধ্যে অনেকগুলো ছিল শিশুদের।
২০২৩ সালে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ও মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে আরও ১১ জন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এক্সএআই চালু করেছিলেন বিশ্বের এ শীর্ষ ধনী।
সেই সময়ে কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুসারে, তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ‘মহাবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ বোঝা’।
কোম্পানির দুই সহ প্রতিষ্ঠাতা ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এক্সএআই।