শিরোনাম
◈ নীরবে মদ বিক্রি শুরু করেছে সৌদি আরব, কিনতে পারছেন যারা ◈ যমুনার সামনে বিক্ষোভে অধিকাংশই লাঠির আঘাতে আহত: ঢামেক পরিচালক (ভিডিও) ◈ শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত, যানচলাচল স্বাভাবিক ◈ ফের রণক্ষেত্র শাহবাগ, পুলিশের লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ আন্দোলনকারীরা ◈ মালয়েশিয়া ছাড়ছে অবৈধ অভিবাসীরা, শীর্ষে বাংলাদেশিরা ◈ বাংলা‌দেশবী‌হিন বিশ্বকাপের পর্দা উঠ‌ছে শ‌নিবার, জমকা‌লো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা থাকছে ◈ কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বিএনপির ◈ যমুনার সামনে সংঘর্ষের সময় ‘গুলি ছোড়া হয়নি’, দাবি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ◈ উন্নত দেশের সঙ্গে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ ◈ জুলাই সনদ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

প্রকাশিত : ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪২ বিকাল
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কেন নেদারল্যান্ডসের মানুষ জানালার পর্দা খোলা রাখেন?

কোনো এক সন্ধ্যায় আপনি যদি নেদারল্যান্ডসের কোনো আবাসিক এলাকায় হাঁটতে বের হন, একটি বিষয় আপনার চোখে পড়বেই। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতরের আলো জ্বলে ওঠে, আর রাস্তা থেকে অনেক সময়ই স্পষ্ট দেখা যায় মানুষের বসার ঘর। সোফা, ল্যাম্প, ডাইনিং টেবিল—এমনকি পরিবারের একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও চোখে পড়ে।

ভিনদেশি দর্শনার্থীদের কাছে বিষয়টি অবাক করা, কখনো কখনো অস্বস্তিকরও লাগতে পারে।

পৃথিবীর অনেক দেশে অন্ধকার নামলেই জানালার পর্দা টেনে দেওয়া হয়। কিন্তু নেদারল্যান্ডসে সেগুলো বেশির ভাগ সময়ই খোলা থাকে। শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও জানালাগুলো প্রায়ই পর্দাহীন দেখা যায়। এই অভ্যাস বহু বছর ধরেই বাইরের মানুষের কৌতূহলের কারণ।

এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যাও প্রচলিত আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি এক ব্যবহারকারী নেদারল্যান্ডসের এই ‘পর্দাহীন সংস্কৃতি’ দেখে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন।

কারো মতে এর পেছনে ধর্মীয় প্রভাব আছে, কেউ বলেন ইতিহাস, আবার কেউ মনে করেন আবহাওয়া এর কারণ।

প্রথমেই একটি ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি। ডাচ মানুষ কিন্তু কাউকে তাদের ঘরের ভেতর তাকিয়ে দেখতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন না। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ কারো ঘরের ভেতর তাকিয়ে থাকা এখনো অশোভন ও অস্বস্তিকর আচরণ হিসেবেই ধরা হয়। হাঁটতে হাঁটতে এক ঝলক চোখে পড়া স্বাভাবিক, কিন্তু ইচ্ছে করে তাকিয়ে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। খোলা জানালার অর্থ এই না যে, তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান; বরং এটি ব্যক্তিগত ও জনজীবনের সীমারেখা সম্পর্কে ডাচ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

ক্যালভিনিজম

সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলোর একটি হলো ক্যালভিনবাদ—প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্মের একটি ধারা, যা ডাচ ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ক্যালভিনবাদে সরলতা, সততা ও স্বচ্ছতাকে মূল্য দেওয়া হয়। এই ধারণা অনুযায়ী, খোলা পর্দা বোঝায় যে, ঘরে লুকানোর কিছু নেই, জীবনযাপন সৎ ও শালীন। তবে গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি যথেষ্ট নয়। কারণ আধুনিক ডাচ সমাজ অনেকটাই ধর্মনিরপেক্ষ, তবুও এই অভ্যাস রয়ে গেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

আরেকটি জনপ্রিয় ব্যাখ্যা জড়িয়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে। জার্মান দখলদারিত্বের সময় কঠোর ‘ব্ল্যাকআউট’ নিয়ম চালু ছিল। রাতে ঘর থেকে যেন কোনো আলো বাইরে না বের হয়, সেজন্য জানালায় মোটা পর্দা বা ঢাকা ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল। বাইরে আলো দেখা গেলে জরিমানাও হতো। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মানুষ আবার পর্দা সরিয়ে আলো উন্মুক্ত করতে স্বস্তি বোধ করেছিল। যদিও এই অভিজ্ঞতা আলো ও স্বাধীনতা নিয়ে মনোভাব গঠনে ভূমিকা রেখেছিল, তবুও এটিই একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়।

আবহাওয়া

আবহাওয়ার কথাও প্রায়ই শোনা যায়। নেদারল্যান্ডসে বিশেষ করে শরৎ ও শীতকালে সূর্যালোক খুব বেশি পাওয়া যায় না। দিন ছোট, আকাশ মেঘলা, সন্ধ্যা দীর্ঘ। ফলে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢুকতে দেওয়া মানুষ পছন্দ করে, এতে ঘর উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত লাগে। তবে এটিও পুরো ব্যাখ্যা নয়, কারণ অন্ধকার হওয়ার পরও অনেকেই পর্দা খোলা রাখেন।

জীবনযাপন ও সামাজিক সম্পর্ক

সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটি সমাজজীবনের সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক সম্প্রদায়ে বসবাসকারীরা জানালার পর্দা খোলা রাখার প্রবণতা বেশি দেখান। খোলা জানালা মানুষকে রাস্তার সঙ্গে এক ধরনের সংযোগ দেয়। কে যাচ্ছে, বাইরে কী হচ্ছে, সব ঠিকঠাক আছে কি না—এসব সম্পর্কে অদৃশ্য এক সচেতনতা তৈরি হয়। এতে পারস্পরিক আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ গড়ে ওঠে।

জানালাটি তখন ভেতর ও বাইরের মাঝে কঠিন দেয়াল নয়, বরং নরম এক সীমানা—যা খোলামেলা মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়, তবে সরাসরি মেলামেশার নয়।

বাস্তব দিক

বাস্তব কারণও আছে। বিশেষ করে শহরের ডাচ বাড়িগুলো অনেক সময় সরু হয়, কিন্তু সামনের জানালা বড়। পর্দা টানলে আলো কমে যায়, ঘর ছোট ও গুমোট লাগে। তাই অনেকেই খোলামেলা, আলোভরা পরিবেশ পছন্দ করেন। এমনকি ঘরের সাজসজ্জাও অনেক সময় এমনভাবে করা হয়, যেন তা আংশিকভাবে বাইরে থেকে দৃশ্যমান থাকবে—এ বিষয়টি মাথায় রেখেই।

সামাজিক বোঝাপড়া

সবশেষে আছে এক নীরব সামাজিক বোঝাপড়া। যেহেতু অনেকেই পর্দা খোলা রাখেন, সবাই জানে কিভাবে আচরণ করতে হয়। এখানে গোপনীয়তা রক্ষা হয় কাপড়ের পর্দায় নয়, বরং সামাজিক শিষ্টাচারে।

সব মিলিয়ে, ডাচদের পর্দা খোলা রাখার অভ্যাসের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। ইতিহাস, বাড়ির নকশা, সামাজিক আস্থা ও দৈনন্দিন বাস্তবতার মিশ্রণেই এই সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। যেটা বাইরের মানুষের কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে, সেটাই স্থানীয়দের কাছে স্বাভাবিক, স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের অংশ।

সূত্র : এনডিটিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়