আজিজুল ইসলামঃ বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান ও দরাজহাট ইউপির বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবু তাহের সিদ্দিকী ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহি ইলাইহি রাজিউন)। তিনি আজ দুপুরে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে দ্রুত যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে একই দিন তাঁকে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানেই শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আবু তাহের সিদ্দিকীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল আশির দশকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘জাসদ ছাত্রলীগ’-এর মাধ্যমে। তবে নব্বইয়ের দশকে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন এবং দ্রুতই স্থানীয় নেতৃত্বে নিজের জায়গা করে নেন। বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে টানা এক দশকেরও বেশি সময় দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে ২০১৫ সালে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পৌর নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ১০ বছরের সেই মান-অভিমান শেষে চলতি বছরের ১৩ই জানুয়ারি তাঁকে আবারও সগৌরবে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে আবু তাহের সিদ্দিকী একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর তিনি দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ আমলেও তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান।
পরবর্তীতে ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ পদ্ধতি পুনরায় চালু হলে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আবু তাহের সিদ্দিকীর মৃত্যুতে বাঘারপাড়া এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি ৪ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের প্রয়াণে যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় শূন্যতার সৃষ্টি হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।