শিরোনাম
◈ মনোমালিন্যের জেরে চট্টগ্রামে প্রেমিককে কুপিয়ে টুকরো টুকরো করল প্রেমিকা ◈ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আসিফ মাহমুদের ◈ মিয়ানমারে বিয়ের অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলে জান্তার বিমান হামলা: নারী-শিশুসহ নিহত ২৭ ◈ আমেরিকা তাঁকে ১৫ মিনিট দিয়েছিল সিদ্ধান্ত নিতে – কথামতো চলো, নয়তো মরবে: ভিডিও ফাঁস ◈ যুক্তরাষ্ট্র-চীনের কূটনৈতিক লড়াই বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে? ◈ বিদেশে কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় বাধায় বিপর্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশি ◈ দিল্লি থেকে অডিও বার্তায় বাংলাদেশ রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য শেখ হাসিনার ◈ হাসিনা আপার কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ফেলে রেখে গেছেন, আমরা তাদের পাশে আছি : মির্জা ফখরুল ◈ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকা‌পে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ ◈ আইসিজেতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের দাবি নাকচ বাংলাদেশের

প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:১৪ সকাল
আপডেট : ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:১৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অ্যান্টার্কটিকার বরফের নীচে মিলল সাড়ে তিন কোটি বছরের পুরোনো পৃথিবীর চিহ্ন

তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি। তীব্র গতিতে বয়ে যাওয়া হাওয়ার স্রোতে বরফের কুচি উড়ছে সূচের মতো। সোজা হয়ে দাঁড়ানো দায়। কিন্তু সে সব অগ্রাহ্য করে একটি সরু গর্তের চার পাশে জড়ো হয়ে ছিলেন একদল কমলা রঙের পার্কা পরা মানুষ। তাদের একজন ঠান্ডায় প্রায় অবশ হয়ে যাওয়া আঙুলে মনিটর পরীক্ষা করছিলেন। অন্য একজন একটা ধাতব কনসোল থেকে বরফ মুছছিলেন। তারা যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন, সেখান থেকে মাটির ঠিক দু’কিলোমিটার নীচে, বরফ কেটে চলেছিল একটা ড্রিল মেশিন। অবশেষে সেটা ‘নতুন কিছুর’ সন্ধান পেল।

কয়েক সেকেন্ডের জন্য রেডিয়োর ঘড়ঘড়ে আওয়াজ ছাড়া সব নিস্তব্ধ। তার পরে কফির গুঁড়োর মতো রংয়ের কাদা ও পাথরের একটি ছোট চাঁই খুব সাবধানে তুলে আনা হলো বাইরের সেই আলোয়। প্রায় সাড়ে তিন কোটি বছর পর ফের সূর্যের আলো দেখল অ্যান্টার্কটিকার ওই মাটি। এখন যেখানে অন্তত দু’কিমি পুরু বরফের স্তর, সাড়ে তিন কোটি বছর আগে ওই জায়গা একেবারে অন্য রকম ছিল। ওই জায়গা তখন নদী, জলাভূমি আর স্যাঁতসেঁতে জঙ্গলে ঢাকা একটা নিচু ভূখণ্ড। প্রান্তে ঘন নাতিশীতোষ্ণ বনভূমি। কিছু স্তরে এমন সব চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে যা আধুনিক বিচ গাছ এবং অন্য কনিফারের সঙ্গে মিলে যায়। আবার অন্য কিছু স্তর এমন সব উদ্ভিদগোষ্ঠীর ইঙ্গিত দেয় যার অস্তিত্ব বর্তমানে পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তার পরে পরিস্থিতি ক্রমশ বদলে গেল। অ্যান্টার্কটিকা ধীরে ধীরে বরফের শীতল চাদরে ঢাকা পড়ে গেল। আর সেখানকার সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রকে যেন ‘পজ’ বাটন মেরে একেবারে থমকে দিয়ে প্রকৃতি দু’কিমি পুরু বরফের আস্তরণে সংরক্ষণের জন্য রেখে দিলেন।

সম্প্রতি অ্যান্টার্কটিকার ওই বরফের স্তরে ড্রিলিং মেশিন চালিয়ে যে পলিমাটি এবং পাথরের কুচো–মাখা নমুনাটি তুলে এনেছেন বিজ্ঞানীরা, সেটা সামান্য একটা কাদার তাল নয় — প্রাকৃতিক টাইম মেশিনের একটা ফ্রেম। ওই নমুনায় এখনও লেগে রয়েছে প্রাচীন মাটির ক্ষীণ গন্ধ। মাইক্রোস্কোপের নীচে ওই ‘সাধারণ কাদা’–ই পরিণত হয়েছে অভূতপূর্ব এক গ্যালারিতে। সেখানে আটকে আছে পরাগরেণু, পাতার টুকরো আর বহু আগে বিলুপ্ত হওয়া অণুজীবদের সূক্ষ্ম অবয়ব।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, বরফের নীচে ড্রিলিং করে যে মাটির স্তরের নমুনা তারা সংগ্রহ করে আনতে পেরেছেন, সেখানকার রাসায়নিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে গবেষকরা অতীতের সেই পৃথিবীর ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনুমান করতে পেরেছেন। তারা প্রমাণ পেয়েছেন এক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রেরও। ওই বাস্তুতন্ত্র দীর্ঘকাল টিকে ছিল। ওই সমাহিত জগতের তথ্য সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের। তারা জানাচ্ছেন, প্রায় ৩৪ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী একটি ‘টিপিং পয়েন্ট’ বা সঙ্কটকাল অতিক্রম করেছিল। একসময়ের সবুজ এবং মৃদু আবহাওয়ার অ্যান্টার্কটিকা হঠাৎ করেই বরফে ঢাকতে শুরু করে। সমুদ্রের স্রোতের অভিমুখ বদলে যায়। একটি স্থায়ী বরফের আস্তরণ তৈরি হয় এবং গোটা বিশ্বে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কমে শুরু করে। সদ্য সংগ্রহ করা ওই নতুন নমুনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জলবায়ুর ওই রূপান্তর কিছু কিছু অঞ্চলে আমাদের আধুনিক গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক বেশি আকস্মিক ছিল।

বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন, তাহলে কি জলবায়ুর যাবতীয় মডেলকে ভুল প্রমাণ করে এমন কোনও সঙ্কটকাল নেমে আসতে পারে যেখানে গড় তাপমাত্রা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ না বেড়ে না গিয়ে পিছু হঠতে হঠতে ফের পৃথিবীতে অ্যান্টার্কটিকার মতোই তুষার যুগ নামিয়ে আনবে? ইতিমধ্যেই একদল বিজ্ঞানী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে আমরা আসলে দু’টি তুষার যুগের মধবর্তী একটা সময়ে বসবাস করছি। তাপমাত্রার এই বাড়–বাড়ন্ত নিতান্তই সাময়িক ঘটনা। নির্দিষ্ট সময় পরই পৃথিবী ফের বরফের চাদরে মুড়ি দেবে — অতীতে যেমন করেছে বহুবার।

সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়