শিরোনাম
◈ মুজিববর্ষে ৯৮২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে তৎকালীন সরকার: অর্থমন্ত্রী ◈ হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ◈ ত্রাণ, চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে গাফিলতি নয়, কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ ‎আবহাওয়া দেখে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত‎: শিক্ষামন্ত্রী ◈ বন্যার ভয়াবহতা: ৫১ প্রাণহানি, পানিবন্দি আড়াই লাখের বেশি পরিবার ◈ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় উদ্যোগ: আমিনবাজার ও মাতুয়াইল প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ◈ ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি কয়েক দেশে ◈ ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী পেল প্রাথমিক বৃত্তি, ট্যালেন্টপুল ৩২ হাজার ৯৬৫ ◈ মুষলধারে বৃষ্টিতে স্থবির ঢাকা: ‘২০ বছরের রেকর্ড’ দাবি কতটা সত্য, আরও কয়েকদিন থাকতে পারে ভারী বর্ষণ ◈ ঝালকাঠির নলছিটিতে সন্তান নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া সেই নারী গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:১৭ দুপুর
আপডেট : ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাপানে ‘জোহাৎসু’ প্রথা: বছরে লাখো মানুষ হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, লুকিয়ে আছে অজানা গল্প

জাপানে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষের বেশি মানুষ হঠাৎ করেই পরিচিত পরিবেশ থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। তাদের পরিবার বা বন্ধু কেউই জানে না তারা কোথায় চলে গেছে। এই প্রথাকে জাপানি ভাষায় ‘জোহাৎসু’ বলা হয়, যার অর্থ “হঠাৎ করে উবে যাওয়া।”

জোহাৎসুরা সাধারণত ঋণ, পারিবারিক অশান্তি, চাকরির চাপ বা ব্যর্থতার কারণে এই পথ বেছে নেন। তারা গোপনে পরিচিত স্থান ছেড়ে অচেনা বা নির্জন স্থানে চলে যান, যেখানে কেউ তাদের চেনে না। সেখানে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করে, বিভিন্ন কাজ করতে থাকে এবং পরিচিতদের থেকে দূরে থাকেন।

এই ধরনের মানুষদের সহায়তার জন্য জাপানে বিশেষ সংস্থা তৈরি হয়েছে, যার নাম ‘নাইট মুভারস’। তারা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে জোহাৎসুদের নতুন বাসস্থান, কাজ এবং জীবনযাত্রার বন্দোবস্ত করে দেয়। এজন্য সংস্থাটি পারিশ্রমিকও গ্রহণ করে।

১৯৯০-এর দশকে জাপানে অর্থনৈতিক ধসের সময় এই প্রথা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। তখন হতাশাগ্রস্ত মানুষরা আত্মরক্ষা হিসেবে নিখোঁজ হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করেন। তখন হাতরি নামের এক ব্যক্তি প্রথমবার এই ধরনের সংস্থা তৈরি করেন।

জাপানের আইন অনুযায়ী দুর্ঘটনা বা অপরাধমূলক কারণ না থাকলে কারও গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা হয় না। তাই জোহাৎসুরা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে, যেমন এটিএম ব্যবহার বা বাজারে যাওয়া, নিরপেক্ষভাবে।

তবে সব জোহাৎসুই চাপ থেকে মুক্তি পায় না। অনেক সময় একাকীত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোহাৎসুরা প্রায়ই মানসিক একাকীত্ব ও চাপের কারণে নতুন ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।

জাপানের এই অনন্য সামাজিক প্রথা আজও চলমান এবং হতাশাগ্রস্ত মানুষের জন্য এক ধরনের আশ্রয় ও নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়