শিরোনাম
◈ পাকিস্তানে এমবিবিএস-বিডিএস পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, আবেদন ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ◈ ভোক্তার স্বার্থ উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ◈ ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা ছাড়ালেই বরফে স্থায়ী বিপর্যয়ের আশঙ্কা, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা! ◈ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করল বেফাক, অমান্যে স্বীকৃতি বাতিল হতে পারে ◈ গোলরক্ষকের হাঁটুর আঘাতে জ্ঞান হারালেন স্ট্রাইকার, পরিত্যক্ত ম্যাচ ◈ উৎসবের আনন্দ রূপ নিল আতঙ্কে: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হ্যালোইন উৎসবে বন্দুক হামলা, নিহত ২৪ আহত ৯৪ ◈ বিশ্বকা‌পে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে ৯ লাখ আবেদন ◈ জামিনে কারামুক্ত জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ◈ ফের মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ: বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন ◈ ব্রিটিশ নাগরিকত্বের সুবাদে আইপিএলে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন পা‌কিস্তা‌নের মোহাম্মদ আমির 

প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ দুপুর
আপডেট : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ব্যালন ডি’অর: সাত দশকে সোনালি বলের রোমাঞ্চ

স্পোর্টস ডেস্ক: একটি সোনালি বল। অথচ এর ওজন শুধু ধাতুর নয়, ফুটবল মাঠে বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো, ইতিহাস গড়া আর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের স্বীকৃতি। কারও কাছে এটি আজীবনের স্বপ্ন, কারও কাছে ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। নাম ব্যালন ডি’অর। ১৯৫৬ সালে ইউরোপের সেরা ফুটবলারকে স্বীকৃতি দেওয়ার ছোট্ট আয়োজন হিসেবে শুরু হয়েছিল যে পুরস্কারের, সাত দশক পর সেটিই হয়ে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত সম্মান।

ব্যালন ডি’অরের প্রথম বিজয়ী ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস। ১৯৫৬ সালে ৪১ বছর বয়সে এই পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। তবে শুরুর দিনগুলোতে এর পরিধি ছিল বেশ সীমিত। কেবল ইউরোপীয় নাগরিকত্বধারী ফুটবলাররাই ছিলেন বিবেচনায়। ফলে পেলে কিংবা দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরাও ইউরোপের ক্লাবে খেলেও এই স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পাননি।

সময় বদলেছে, বদলেছে ব্যালন ডি’অরের নিয়মও। ১৯৯৫ সালে ইউরোপের ক্লাবে খেলা সব দেশের ফুটবলারদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় পুরস্কারটি। সেই পরিবর্তনের পর প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সোনালি বল জেতেন লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ। ২০০৭ সালে আরও বড় হয় এর পরিধি। বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য খুলে যায় পুরস্কারটির দরজা। ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারের সঙ্গে একীভূত থাকলেও পরে আবার স্বতন্ত্র পরিচয়ে ফিরে আসে ব্যালন ডি’অর।

শুধু নামের জৌলুস নয়, বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও রয়েছে বিশেষত্ব। সাংবাদিকদের ভোটে নির্ধারিত হয় সেরা খেলোয়াড়। পুরুষ বিভাগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের এবং নারী বিভাগে শীর্ষ ৫০ দেশের নির্বাচিত সাংবাদিকেরা ভোট দেন। ফ্রান্স ফুটবলের সম্পাদকীয় দল প্রকাশ করে মনোনীতদের সংক্ষিপ্ত তালিকা। এরপর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্যে অবদান, মাঠে প্রভাব ও ক্রীড়াসুলভ আচরণ বিবেচনায় ভোটের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় বিজয়ী।

Advertisement

পুরুষদের পাশাপাশি নারী ফুটবলেও এখন ব্যালন ডি’অরের আলাদা মর্যাদা। ২০১৮ সালে প্রথমবার দেওয়া হয় নারী ব্যালন ডি’অর। প্রথম আসরেই জয়ী হন নরওয়ের আডা হেগারবার্গ। পরে এই পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস ও আইতানা বোনমাতির মতো তারকারা। নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে পুরস্কারটির গুরুত্বও বেড়েছে।

তবে ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম লিওনেল মেসি। আটবার এই পুরস্কার জিতে রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাঁর পরেই রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের ঝুলিতে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। তিনবার করে সোনালি বল জিতেছেন ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন। প্রত্যেকেই নিজের সময়ে ফুটবলকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা।

সাত দশকে ফুটবল বদলেছে অনেকবার। বদলেছে খেলার কৌশল, তারকার ধরন, প্রতিযোগিতার মাত্রা। মেসি-রোনালদোর দীর্ঘ আধিপত্য যেমন ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে আলাদা অধ্যায়, তেমনি নতুন প্রজন্মের তারকাদের উত্থানও যোগ করছে নতুন রোমাঞ্চ। বিজয়ী নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, ভোটের মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবু কমেনি সোনালি বলের আকর্ষণ। কারণ, ট্রফি জয়ের আনন্দ দলকে ঘিরে হলেও ব্যালন ডি’অর একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। সাত দশক ধরে সেই স্বীকৃতির পেছনেই ছুটছেন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা।