স্পোর্টস ডেস্ক : আক্রমণের পর আক্রমণ, একের পর এক সুযোগ—তবু গোলের দেখা নেই। কখনো বেলজিয়ামের গোলরক্ষক, কখনো ক্রসবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল ফ্রান্সের সামনে। শেষ পর্যন্ত বদলি নেমে মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত গোলে স্বস্তির জয় পেল ফরাসিরা। ব্রাসেলসে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে নেশন্স লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল।
নতুন কোচের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচেই জয় ফ্রান্সের। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষে তারা। ৩ পয়েন্ট নিয়ে বেলজিয়াম ও ইতালি যথাক্রমে দুই ও তিনে। তুরস্কের ঝুলিতে এখনো কোনো পয়েন্ট নেই।
ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। প্রায় ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে ১৮টি শট নেয় তারা, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বেলজিয়ামের ১২ শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে—দুটিই এসেছে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে।
তুরস্কের বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে নয়টি পরিবর্তন আনেন জিদান। অভিষেক হয় আঁদি দিউফ, জেহেমি জ্যাকে ও লুকা দা কুইয়ার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফ্রান্স ষষ্ঠ মিনিটেই সুযোগ পায়। তবে এস্তেবান লাপোলের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ছয় মিনিট পর দেজিরে দুয়ের দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের পর নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধেও সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছিল ফ্রান্স। দুয়ের নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়, পরে তাঁর আরেকটি প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকান বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সানা লমেন্স। বেলজিয়ামও শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে ওঠে। তবে দদি লুকেবাকিওর দুটি প্রচেষ্টাই রুখে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ।
শেষ পর্যন্ত ৭৭তম মিনিটে মাঠে নামা ওলিসেই হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে রায়ান শের্কির ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার। সামনে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো নিচু শটে বল জালে জড়ান তিনি।
গোলের পর নিজেকে সামলাতে পারেননি জিদানও। সাধারণত টাচলাইনে শান্ত থাকা ফরাসি কোচ ছুটে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে উদযাপনে মাতেন। কঠিন ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।