স্পোর্টস ডেস্ক : ইংল্যান্ড সফরে সিরিজের মাঝপথে দলে ব্যাপক পরিবর্তন এবং কোচিং স্টাফে রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক স্পিনার সাঈদ আজমল। তার মতে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট প্রায় এক দশক পিছিয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সিরিজের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক ক্রিকেটার রামিজ রাজা ও শাহিদ আফ্রিদিসহ অনেকেই পিসিবির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
সম্প্রতি জিও নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এসব পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আরও ভালো বিকল্প খুঁজতেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের নিরুৎসাহিত না করার আহ্বান জানান।
এর পরই পিসিবির সমালোচনায় মুখ খোলেন আজমল। সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে বোর্ডের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
আজমলের ভাষায়, বোর্ড কোনো খেলোয়াড়কে দলে থিতু হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। ভালো পারফরম্যান্সের পরও অনেক ক্রিকেটার বাদ পড়েছেন এবং কেউ কেউ বোর্ডের সিদ্ধান্তে অপমানিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাত ক্রিকেটারের পরিবর্তে সাইম আইয়ুব, আবদুল্লাহ ফাজালসহ পাঁচজন নতুন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাইক হেসনকে প্রধান কোচ এবং অ্যাশলি নফকে বোলিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেটের চলমান অস্থিরতার জন্য হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ ও প্রধান কোচ মাইক হেসনের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন আজমল। তার দাবি, এই দুই কর্মকর্তা বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং পুরো পরিস্থিতি অহংবোধের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে সাবেক এই স্পিনার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দল প্রায় ১০ বছর পিছিয়ে গেছে। তার অভিযোগ, ভবিষ্যতের জন্য কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি।
আগামী বুধবার বার্মিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।