গতকাল (৭ জুলাই) রাতে আটলান্টায় শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।
বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেছে বলে ক্ষুব্ধ মিশর। ঘটনার সূত্রপাত ৬০ মিনিট থেকেই। মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করলেও তা বাতিল করা হয়েছে। সেই গোল তৈরির সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের কাছ থেকে বল কাড়তে গিয়ে তার জার্সি টেনে ধরেন মিশরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া।
শুধু তাই নয়, মাটিনেজের পায়ের ওপর পা তুলে দেন আত্তিয়া। গোলের পর জিকো ও তার সতীর্থরা উদযাপনের পর ভিডিও অ্যাসিস্ট রেফারির হস্তক্ষেপে সেটাকে ফাউল বিবেচনা করে গোল বাতিল করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিতর্ক তৈরি হয় ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে। এনসো ফের্নান্দেস গোল করে উদযাপনে মাতেন। তার এই গোলই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।
আগামীকাল বোস্টনে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। সেই ম্যাচের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্স কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয় আর্জেন্টিনা কি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ফিফার কাছ থেকে— এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্র্যান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘না (সম্ভাব্য প্রভাবের কোনো সন্দেহ নেই)। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে আমি এই নীতিতে বিশ্বাস করি যে রেফারি নিয়োগ হয়ে গেছে, এবং এ বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই।’
ফিফা গতকাল এক বিবৃতিতে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের পাঁচ রেফারির নাম ঘোষণা করেছে। এই পাঁচজনের প্রত্যেকেই আর্জেন্টাইন। প্রধান রেফারি থাকছেন ফাকুন্দো তেলো। তেলোর সঙ্গে সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল শেড। চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে থাকছেন দারিও এরেরা। আর রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকছেন ক্রিস্টিয়ান নাভারো।
ফ্রান্সের কোচ আরও বলেন, ‘আমি রেফারিদের ওপর আস্থা রাখার চেষ্টা করি। রেফারিকে কখনোই প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখি না। আগামীকালের ম্যাচে তেলো এবং তাঁর সহকারী রেফারিরা ঠিক ততটাই দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, যতটা লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর সহকারীরা আগের একটি ম্যাচে করেছিলেন।’
দেশম বলেন, ‘অবশ্যই এমন কিছু সিদ্ধান্ত সবসময়ই থাকে যা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। সবকিছু নির্ভর করে আপনি কোন পক্ষের সমর্থক তার ওপর। কিন্তু আমার কাছে প্রতিপক্ষ হলো মরক্কো। বরং তিনি মাঠে আছেন যাতে খেলার নিয়মগুলো যতটা সুশৃঙ্খলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিশ্চিত করতে।’