বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে হতাশাজনক ড্রয়ের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। দুর্বল হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে গ্রুপ সিতে তারা এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে তারা এগিয়ে।
প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় চাপ ছিল ব্রাজিল শিবিরে। সেই চাপ তারা প্রথমার্ধেই উড়িয়ে দেয় দাপুটে পারফরম্যান্সে। ম্যাচের শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ ছিল সেলেসাওদের হাতে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন আক্রমণের মূল কারিগর। দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি কিছুটা ধার বাড়ালেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। তবে প্রথমার্ধে ৩ গোল পেলেও ৮২ ধাপ পিছিয়ে থাকা হাইতির বিপক্ষে সেরা ছন্দে ছিল না ব্রাজিল। আধিপত্য যদিও করেছে। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে গোছানো রক্ষণভাগ নিয়ে শুরুতে ব্রাজিলকে বেশ ভুগিয়েছে হাইতি। প্রথম ২০ মিনিটে আনচেলত্তির দলকে লক্ষ্যভ্রষ্ট একটি শটেই সীমাবদ্ধ রাখে তারা। তবে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়াতে থাকে ব্রাজিল। যার ফল হিসেবে ম্যাচের ১২ মিনিটে রাফিনহা জালে বল জড়িয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়েছে। এরপর ২৩ মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি।
শুরুতে জাল কাঁপান কুনহা। গুইমারেসের পাস পেয়ে পেনাল্টি এলাকার দিকে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ড্রিবল করতে করতে তিনি বাম দিকে সরে গেলে তার পিছু নেন হাইতির দুই ডিফেন্ডার। এরপর শরীরের দ্রুত মোচড়ে ভেতরে ঢুকে গোলমুখে বাঁকানো শট নিয়েছিলেন। হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিদে শুরুর চেষ্টায় শটটি ঠেকাতে পারলেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বল বিপদমুক্ত করতে মরিয়া হয়ে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন ডেলক্রোয়া। কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা গিয়ে লাগে কুনহার গায়ে। সেখান থেকে বল গড়িয়ে জড়িয়ে যায় জালে।
তার পর ৩৬ মিনিটে কুনহার গোলেই ব্যবধান বাড়ায় সেলেসাও। মাঝমাঠে বলের দখল হারায় হাইতি। সেই সুযোগে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল। বল পায়ে নিয়ে দুরন্ত গতিতে সামনে ছুটে যান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর রক্ষণভাগের ফাঁক গলে কুনহার উদ্দেশে বাড়ান নিখুঁত এক পাস। সেখান থেকে তার জোরালো শট কাঁপায় জালের ছাদে।
৪৫+৩ মিনিটে পাকেতা হাইতি রক্ষণভাগের মাথার ওপর দিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উদ্দেশে দুর্দান্ত এক থ্রু পাস দিয়েছিলেন। বল পেয়ে রক্ষণভাগ ভেঙে একাই এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস। দ্রুতগতিতে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এ সময় গোলরক্ষক প্লাসিদে বেরিয়ে এলে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় পায়ের ফাঁক গলে নিখুঁত শটে স্কোর ৩-০ করেছেন।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের কাছে চলে গিয়েছিল হাইতিও। ৬৩ মিনিটে বেলেগার্দের নিখুঁত কর্নার খুঁজে নেয় আদেরকে। মারকিনিয়োসের আগেই বলের নাগাল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো হেডে গোলমুখে বল পাঠিয়েছিলেন হাইতির এই সেন্টার-ব্যাক। নিশ্চিত গোল বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু গোললাইনে অবিশ্বাস্য বীরত্ব দেখান ব্রাজিল গোলরক্ষক। দুই হাত উঁচিয়ে দারুণ সেভে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি।
৭৮ মিনিটে দ্রুত গতিতে রক্ষণ ভেঙে দৌড় দিয়েছিলেন এন্দ্রিক। এরপর গোলরক্ষক প্লাসিদের পায়ের ফাঁক গলে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য আবারও অফসাইডের ফাঁদে বাতিল হয় ব্রাজিলের গোল। তার পর আর স্কোরলাইনে হেরফের করতে পারেনি কোনও পক্ষ-ই। তাতে ব্রাজিল ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।