শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধটি আসলে কেন হয়েছিল? ◈ বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের হাঙর সাব‌মে‌রিন, বাংলাদেশকে নি‌য়েও জল্পনা তু‌ঙ্গে, ভারতের জন্য কতটা চিন্তার? ◈ যুক্তরা‌স্ট্রের স‌ঙ্গে আলোচনার মানে এটা নয় যে, শত্রুর মতামত মেনে নেয়া হবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ◈ ‌বিশ্বকা‌পে হাইতির বিরু‌দ্ধে নতুন  কৌশল নিয়ে নামবেন ব্রা‌জি‌লের কোচ কা‌র্লো আনচেলত্তি ◈ হরমুজ খুলতেই এশিয়ার বাজারে আসছে ৬ কোটি ব্যারেল তেল ◈ শ‌নিবার নারী টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকা‌পে পাকিস্তানের মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ  ◈ গরম আর বৃ‌ষ্টি এড়াতে আইপিএল এগিয়ে আনতে চায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ◈ দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে স্বাগতিক মেক্সিকো ◈ কাতারকে ৬ গোলে উড়িয়ে ইতিহাস কানাডার, ড্রেসিংরুমে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ নতুন সমঝোতায় শক্তিশালী ইরান, শঙ্কায় প্রতিদ্বন্দ্বীরা

প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ দুপুর
আপডেট : ১৯ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অঘটনের য‌তো মহোৎসব

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকা‌পে মাঠের লড়াইয়ে ফেবারিটদের দাপট যেমন, তেমনি আন্ডারডগদের রূপকথার জন্ম দেওয়াও ফুটবলের সৌন্দর্যের অংশ। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড খেলা শেষ হতেই ফুটবলপ্রেমীরা যেন সেই চিরচেনা রূপকথার রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। কাতার-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর যৌথ মঞ্চে ফেবারিট বা বড় নাম দিয়ে যে ম্যাচ জেতা যায় না, তার প্রমাণ প্রথম রাউন্ডেই হাতেনাতে পেয়ে গেছে ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তিগুলো।

বিশ্বকাপ একটি করে ম্যাচ খেলেছে ৪৮ দল। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোনটি ছিল সবচেয়ে বড় অঘটন? পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে কেন্দ্র করে ছক সাজানো উচিত কি না, সেই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রথম রাউন্ডের বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ড্র বিশ্ব ফুটবলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপীয় জায়ান্টদের রুখে দিয়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া এমন চারটি ‘অপ্রত্যাশিত’ ম্যাচের গল্প নিয়ে লেখা।

সুইজারল্যান্ড ১ : ১ কাতার
ইনজুরি টাইমের নাটকে সুইসদের স্বপ্নভঙ্গ ----

বি’ গ্রুপের ম্যাচে কাগজে-কলমে পরিষ্কার ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল সুইজারল্যান্ড। বিশ্বকাপের ডার্ক হর্সদের তালিকায়ও রখতে হবে তাদের। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর পেনাল্টি গোলে লিড নিয়ে সুইসরা যখন বড় জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, তখন কে জানত ম্যাচের শেষ অঙ্কটা এত নাটকীয় হবে! প্রথমার্ধে সুইসদের দাপটের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে না পারার চড়া মাশুল দিতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে, ম্যাচের বয়স যখন ৯৪ মিনিট (৪৯ মিনিট, দ্বিতীয়ার্ধ), তখন সুইস রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দেন কাতারের মিরো মুহেইম। তাঁর নাটকীয় সমতাসূচক গোলে ১-১ ব্যবধানে সুইসদের রুখে দিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতার, যা এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক।

বেলজিয়াম ১ : ১ মিশর
রেড ডেভিলসদের উদ্ধার করলো আত্মঘাতী গোল ---

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ পরবর্তী দলের জন্য ছিল এক বড় পরীক্ষা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে রীতিমতো নাচিয়ে ছেড়েছে ফারাওরা। ম্যাচের ২০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এরমান আশুরের এক দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় মিশর। প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।

দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিটে (৬৫ মিনিটে) অবশ্য ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় বেলজিয়াম। মিশরের মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোল উপহার দেয় বেলজিয়ামকে। ১-১ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হলেও বেলজিয়ামের এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

স্পেন ০ : ০ কেপ ভার্দে
ভোজিনিয়া প্রাচীরে ভাঙল ইউরো চ্যাম্পিয়নদের দম্ভ ----

সদ্য ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট জেতা স্পেনের সামনে কেপ ভার্দে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে—এমনটাই ধারণা ছিল ফুটবল পণ্ডিতদের। কিন্তু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই বিনোদনে ঠাসা হলেও দুই দলই মাঠ ছেড়েছে গোলশূন্য ড্র নিয়ে। আর এই ড্রয়ের রূপকার কেপ ভার্দের অতন্দ্র প্রহরী, গোলরক্ষক ভোজিনহা।

স্পেনের একের পর এক আক্রমণ যেভাবে তিনি রুখে দিয়েছেন, তাতে রাতারাতি ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এই আফ্রিকান গোলকিপার। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এমন গোলহীন ড্র স্প্যানিশ আর্মাডাদের জন্য এক বড় ধাক্কা।

পর্তুগাল ১ : ১ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো
নেভেসের গোলেও রক্ষা হলো না সেলেসাওদের -----

পর্তুগাল ফুটবল ভক্তদের হতাশ করার তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে যখন পর্তুগাল এগিয়ে যায়, তখন মনে হচ্ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দল হয়তো গোলবন্যা বইয়ে দেবে। কিন্তু ম্যাচের প্রথম অর্ধেকের যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) কঙ্গোর ইয়োয়ান উইসা গোল করে স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা এনে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগিজরা আক্রমণের পর আক্রমণ চালালেও কঙ্গোর রক্ষণদূর্গ ভাঙতে পারেনি। ফলে ১-১ গোলের হতাশার ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইউরোর অন্যতম ফেবারিটদের। ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর এভাবে পয়েন্ট হারানো টুর্নামেন্টের সমীকরণকে আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়