স্পোর্টস ডেস্ক : আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে বিসিসিআই। ওই সিদ্ধান্তের জেরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যেভাবে এক সারিতে এসে ভারতীয় বোর্ডের বিরুদ্ধে প্রায় ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে দিয়েছে, সেটার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় ক্রিকেটে।
এমনকী, ওই বিবাদের জেরে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং একটা বিশ্বকাপও সরে যেতে পারে ভারত থেকে। অন্তত এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ছেঁটে ফেলার প্রতিবাদে বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে আসেনি বাংলাদেশ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাঁরা শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ সরানোর আর্জি জানায়। আইসিসি সেই আর্জি না মানায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। ---- আজকাল
এরপর বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত মহসিন নকভিরা ভারতের বিরুদ্ধে দল নামাতে রাজি হলেও পুরো বিতর্কে পাকিস্তান বোর্ড ও বাংলাদেশ বোর্ড এক ছাতার তলায় চলে এসেছে।
এখন যা পরিস্থিতি তাতে পাকিস্তান অদূর ভবিষ্যতে ভারতে কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট খেলতে আসবে না। আবার এবারের বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশও আদৌ ভারতে খেলতে আসবে কিনা নিশ্চিত নয়। অন্তত ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শুরু না হলে লিটন দাসদের ভারতে খেলতে আসার সম্ভাবনা কম। এদিকে ২০২৯ সালে ভারতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ার কথা।
২০৩১ সালে ফের ওয়ানডে বিশ্বকাপও হওয়ার কথা ভারত ও বাংলাদেশে। সমস্যা হল ২০২৯ সালের আগে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক শুধরাবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত নয় আইসিসি। যদি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে ২০২৯ সালে ভারতে এসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে রাজি না হয়, তাহলে হয় ওই টুর্নামেন্ট করতে হবে হাইব্রিড মডেলে, বা গোটা টুর্নামেন্টটাই সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
আবার ২০৩১ বিশ্বকাপ যৌথভাবে ভারত ও বাংলাদেশের আয়োজন করার কথা। ততদিনে দুই বোর্ডের সম্পর্ক মসৃণ না হলে সেই টুর্নামেন্ট আয়োজনেও অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে বিসিসিআই।
অস্ট্রেলিয়ার এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের দাবি, সবদিক ভেবে আইসিসি ওই দুই মেগা টুর্নামেন্ট ভারত থেকে সরানো নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছে। সেক্ষেত্রে ওই দুই মেগা টুর্নামেন্টই সরে যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ায়। অবশ্য এখনও কথাবার্তা বেশিদূর এগোয়নি। সবটাই ভাবনার স্তরে। আইসিসি গোটা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে বলে দাবি ওই সংবাদমাধ্যমের।