শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোংলা বন্দরে এলো ৫৭ হাজার টন গম ◈ মি‌ডিয়ার বিরু‌দ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কে‌নো? বিসিবির কোন নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে, জানতে চান সাংবাদিকেরা  ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের ৩ দিন আগে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার ◈ রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ◈ কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ◈ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা কেন শঙ্কিত? ◈ জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার ◈ কুৎসা রটিয়ে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস  ◈ প্রতারক চক্রের ফোনকলে সাড়া না দিতে নির্বাচন কমিশনের আহ্বান ◈ কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান, ২০ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:২৫ রাত
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

মি‌ডিয়ার বিরু‌দ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কে‌নো? বিসিবির কোন নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে, জানতে চান সাংবাদিকেরা 

স্পোর্টস ডেস্ক : গজের নায়কেরা বরাবরই থাকেন আলোর নিচে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশে বন্দি হয় তাদের সাফল্য আর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। আর এই আলো-ছায়ার আড়ালে, নীরবে থেকে তাদের গল্পগুলো তুলে ধরেন ক্রীড়া সাংবাদিকেরা। 

যাদের কাছে ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত মিরপুর শেরেবাংলা মানে হাজারও ইতিহাস লেখার আঁতুড়ঘর। সেই ঘরেই এখন পর ক্রীড়া সাংবাদিকেরা! মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আচমকা বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে স্তব্ধ ক্রীড়া সাংবাদিকেরা। বিশেষ করে বছরের পর বছর যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিলেন, হুট করে তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অবাকও হয়েছেন অনেকে।

বিসিবি জানিয়েছে, নিরাপত্তা শঙ্কায় ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। এখন সাংবাদিকদেরও প্রশ্ন—সংবাদকর্মীদের কারণে বিসিবির কোন নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে? 

বিসিবির সিদ্ধান্তের পর হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি এই নিরাপত্তা শঙ্কার উত্তর জানতে চেয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকেরা। এ বিষয়ে দেশের কয়েকজন সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছে দেশকাল নিউজ ডটকম। যারা প্রত্যেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গী। 

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ক্রীড়া সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকা আরিফুর রহমান বাবু বিসিবির এমন সিদ্ধান্তে হতাশ। বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) এই সভাপতি বলেছেন, “গত কিছু দিনে যেসব মিথ্যা নিউজ হয়েছে ওই নিউজগুলো যেমন দুঃখজনক তেমনি ক্রিকেট বোর্ডের স্টেপটা আরও বেশি দুঃখজনক। এই সমস্যার সমাধানটা ক্রিকেট বোর্ড ক্রীড়া সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতো।” 

“বিসিবি আমাদের বলে দিতো যে, আমরা কী করতে পারব আর কী করতে পারব না! আমরাও সেই অনুসারে কাজ করতাম। সেটা না করে, আমাদের পাত্তা না দিয়ে আমাদের ক্রিকেট বোর্ডে প্রবেশটাই সীমিত করে দেওয়া হলো। এটা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা আমাদের পেশার ওপর একটা কুঠারাঘাত। আমাদের সম্মান নিয়ে বিসিবি খেলল। এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।”, যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির (বিএসপিএ) সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিবের মুখেও একই সুর। তার ভাষায়, “যদি সাংবাদিকদের কারণেই কোনো সমস্যা হয়ে থাকে সেটা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যেতে পারে। আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া একদমই উচিত নয়। বিশ্বের সব জায়গাতেই একটা গাইডলাইন আছে যে, সাংবাদিকেরা কী করতে পারবে আর কী করতে পারবে না! সে জায়গায় বিচ্ছিন্ন কোনো সাংবাদিক সেটা যদি লঙ্ঘন করে থাকে সেটার জন্য পুরো কমিনিউটির ওপর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তাদের বুঝতে হবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এই পর্যন্ত আসতে সাংবাদিকদেরও ভূমিকা আছে।”

এনটিভি’র স্পোর্টস এডিটর বর্ষণ কবির জানান, বিসিবির এমন সিদ্ধান্ত ক্রীড়া সাংবাদিকদের অপমান করার সামিল। তিনি বলেন, “এটা অগ্রহণযোগ্য। তারা পূর্বে কীভাবে অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়া হবে এটা নিয়ে সাংবাদিকদের তিনটি সাংবাদিকদের সঙ্গেই বসেছিল। সেটা নিজেরা ঠিকঠাক বাস্তবায়ন না করে বিসিবি হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা চরম হঠকারী ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর এটা এক ধরনের চপেটাঘাত।” 

বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সচিবালয় খুবই স্পর্শকাতর জায়গা। সেখানেও পাস প্রাপ্তরা নিজেদের খবরের প্রয়োজনে যেতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থা দেখলে মনে হয় তাদের স্পর্শকাতরতা তার চাইতেও বেশি। এটা সামাজিকভাবে অপমানের সামিল।

বিডিনিউজ ২৪ ডটকমের স্পোর্টস এডিটর আরিফুল ইসলাম রনিও হতাশ বিসিবির এই সিদ্ধান্তে। তিনি বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশেই ক্রিকেট বোর্ডে সাংবাদিকরা প্রতিদিন যেতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশে এই রীতি আছে কারণ, আমাদের দেশে মূল মাঠ একটাই। সেটা বোর্ড বলেন, হোম অব ক্রিকেট বলেন বা সাংবাদিকদের কাজের জায়গা বলেন—একটাই। অস্ট্রেলিয়া বা ভারত বলেন, তাদের প্রতিটি রাজ্যেই আলাদা আলাদা। সেখানে আমাদের যেহেতু একটা মাঠকেন্দ্রিক, এটা তাই আলাদা। এখন তারা যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছে সেটার জন্য অবশ্যই সাংবাদিকদের অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে বসা উচিত ছিল। তারা কোনো কারণে করতে পারে এর আগে একবার অন্তত আলোচনা করতে পারত।”
 
“অনেক ইস্যুতে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে বসেছে। কিন্তু এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার অন্তত বসতে পারত। এটা মেনে নেওয়ার মতো না। এটা সাংবাদিকদের স্রেফ অপমান করা। সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা। বিসিবি সবসময় বলে সাংবাদিকরা স্টেক হোল্ডার। এটা পেশাদার সিদ্ধান্ত নয়। এটা সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে সাংবাদিকদের অপমান করা ছাড়া আর কিছুই নয়।”, যোগ করেন আরিফুল ইসলাম।
  
বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও নিরাপত্তাজনিত কারণের ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকবাজের বাংলাদেশ প্রতিনিধি আতিফ আজম। সাংবাদিকদের কারণে কোথায় নিরাপত্তা ঝুঁকি সেই প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন এই সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক।

আতিফ আজম বলেন, “এটা খুবই সারপ্রাইজিং। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি যে সাংবাদিকরা কীভাবে সিকিউরিটি থ্রেড হয়? তাদের এটা নির্দিষ্ট করে বলা উচিত ছিল যে, এই এই সাংবাদিকেরা সিকিউরিটি থ্রেডের কারণ। তারা তো প্রেস রিলিজে বুঝাল সাংবাদিকরাই নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ। তাদের কারণটা খুব হাস্যকর। আমরা আপনাদের এইটুকু সময় ঢুকতে দেব না, না হলে দেব, এটা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু সিকিউরিটি জাতীয় ইস্যুর বাহানা বানানোর দরকার কী? এটা অপমানের জিনিস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই নির্দিষ্ট সময়ে ঢুকতে দেয়, এটা সব সাংবাদিকরা মেনে নেয়। সেখানে সিকিউরিটি থ্রেড নামক বিষয় আসবে কেন? এটা তো হাস্যকর ব্যাপার!” 

আরেক সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক মাসুদ পারভেজও একই প্রশ্ন তুলেছেন। বিসিবির কাছে তিনি জানতে চাইছেন, সাংবাদিকদের কারণে কোথায় বিসিবির নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে? 

কালের কণ্ঠের এই স্পোর্টস এডিটর বলেন, “বিসিবি বলছে, নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন সাংবাদিকদের কারণে কোন কালে, কবে বিসিবির নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে এই উত্তরটাও দেওয়া জরুরি। তাদের বিবৃতি অনুসারে বুঝায় যে, তাদের নিরাপত্তা শঙ্কাটা সাংবাদিকদের কারণেই তৈরি হয়েছে তাই সবকিছুর আগে তাদের এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা জরুরি যে, কোন কালে সাংবাদিকদের কারণে তাদের নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে?”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড নানা কারণেই বিতর্কিত। তাদের প্রতিপক্ষের অভাব নেই। এমন সময় সংবাদমাধ্যমকেও তাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে দেওয়া এই জিনিসটা ভালো হচ্ছে না।” 

তাছাড়া বিসিবি কী আড়াল করতে সাংবাদিকদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এই  প্রশ্নের উত্তরও চান মাসুদ পারভেজ, “বোর্ড কী আড়াল করতে সাংবাদিকদের দূরে সরাচ্ছে? এক সময় বোর্ডের সব জায়গায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল। সেটা বন্ধ করাটাকে আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। কিন্তু এখন সাংবাদিকরা যেখানে বসে, সেখানে তো ক্রিকেট বোর্ডের কেউ বসেন না অথবা সেখানে ক্রিকেট বোর্ডের কোনো জরুরি কাগজপত্রও সেখানে থাকে না, তাহলে নিরাপত্তার শঙ্কাটা কোথায়? ---- সূত্র, দেশকাল নিউজ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়