স্পোর্টস ডেস্ক : দুই দলের মধ্যে লড়াই হয়েছে সমানে সমান। তকে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় সিলেট টাইটান্সকে ৫ রানে হারিয়ে প্লে-অফের কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। মঈন আলীর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তখনও ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল সিলেট। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার উইকেট হারানোয় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
শেষ ওভারে বল করতে আসেন পেসার রিপন মণ্ডল। প্রথম দুই বলেই টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান মঈন আলী। তখন বাকি ১০ বলে প্রয়োজন মাত্র ১৩ রান। কিন্তু তৃতীয় বলেই অফ স্টাম্পের বাইরের বলে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মঈন। ১২ বলে এক চার ও তিন ছক্কায় ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে রাজশাহীর চেয়ে ৫ রান কম করে থামে সিলেট।
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সিলেট। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই রিপন মণ্ডলের বলে তৌফিক খান তুষার আউট হন। তিনে নেমে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। মাত্র ২ বলে ১ রান করে বিনুরা ফার্নান্দোর বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ও মুমিনুল হক কিছুটা স্থিতি আনার চেষ্টা করেন। তবে রানের গতি খুব বেশি বাড়াতে পারেননি তারা। দশম ওভারে মোহাম্মদ রুবেলের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরেছেন ৩০ বলে ৪১ রান করা পারভেজ ইমন। এরপর একে একে ফেরেন আফিফ হোসেন (১৫ বলে ১৬), মুমিনুল হক (৩৬ বলে ৩১) ও ইথান ব্রুকস। মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত উইকেট হারানোয় ম্যাচ সিলেটের নাগালের বাইরে চলে যায়।
রাজশাহীর জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পেসার রিপন মণ্ডল। গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে উইকেট তুলে নিয়ে সিলেটের ব্যাটিং ভেঙে দেন তিনি। ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন রিপন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করতে পারেনি রাজশাহী। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। এরপর দলকে টেনে তোলেন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে ৫৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তারা।
মিরাজের অফ স্পিনে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেট হন শান্ত। ২১ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৩৪ রান করেন তিনি। এরপর জিমি নিশাম দ্রুত আউট হলেও মুশফিক দৃঢ়তা দেখান। তবে হাফ সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি তার। ৩০ বলে ৪০ রান করে নাসুম আহমেদের বলে আউট হন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
শেষদিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ১১ বলে ১৬ রানের ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৭ রান তোলে রাজশাহী। সিলেটের হয়ে শহিদুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সঙ্গে সেরা দুইয়ে থাকার দৌড়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।