নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আর সহজ এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল চট্টগ্রাম। অন্যদিকে এই হারের ফলে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল আসরের নতুন দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে নোয়াখালীকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকার এবং হাসান ইসাখিলের ব্যাটে ভর করে ৩৪ রান তোলে নোয়াখালী। ৮ বলে ব্যক্তিগত ১৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য। পাওয়ারপ্লের একদম শেষ বলে গিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন হাসান ইসাখিল।
তার আগে ২০ বলে ২৫ রান করে যান তিনি। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তোলে নোয়াখালী। দলের দুই উদ্বোধনী ব্যাটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তিনে নামা জাকের আলী অনিক কিছু বাউন্ডারি বের করেছেন। চালিয়ে গেছেন লড়াই। কিন্তু অন্য প্রান্তে ব্যাটাররা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।
১১ বলে ১২ রান করা অধিনায়ক হায়দার আলীও হতাশ করেছেন। ২২ বলে ২৩ রান করেছেন জাকের, থেমেছেন দলের ৮৬ রানের মাথায়।
এরপর হাবিবুর রহমান সোহান, মুনিম শাহরিয়াররাও নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১৫ বলে ১১ রান করে বিদায় নেন সোহান। মুনিম করেছেন ১ বলে ১ রান। শেষ দিকে উইকেট হারিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস চলে যায় খাঁদের কিনারায়। যদিও শেষ দিকে লড়াই চালিয়ে ১৯ বলে ২২ রান করেন সাব্বির হোসেন। ফলে ১২৬ রানে থামে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
চট্টগ্রামের হয়ে এদিন দুর্দান্ত বল করে আলাদাভাবে আলো ছড়িয়েছেন শরিফুল ইসলাম। মাত্র ৯ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ৩ উইকেট তোলেন শেখ মেহেদী হাসান। ১ উইকেট শিকার করেন আমের জামাল।
নোয়াখালীর ১২৬ রানের জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান মাহমুদুল হাসান জয়। ৪ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।
পরের ওভারেও উইকেট হারায় দলটি। তিন নম্বরে নামা মোহাম্মদ হারিস একদমই সুবিধা করতে পারেননি। ৫ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন। চারে নামা মাহফিজুল ইসলাম ছিলেন মোটা দাগে ব্যর্থ। ৮ বল খেলে ০ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।
তবে টিকে থাকা ওপেনার নাঈম শেখের ব্যাট ভালোই চলে চট্টগ্রামের লড়াই। কিন্তু ৮ বলে ১৭ রানের ক্যামিও খেলে তিনিও বিদায় নেন। দলের মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই হাওয়া চট্টগ্রামের ৪ উইকেট। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
শুরুর ধসের পর হাসান নওয়াজের সঙ্গে জুটি বাধেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ধীরেসুস্থে এগিয়েছেন হাসান নওয়াজ। ১৪ বলে ১১ রান করে দলের ৬৯ রানের মাথাতে থেমেছেন তিনি।
নওয়াজের বিদায়ের পর মেহেদীর সঙ্গে জুটি বাধেন আসিফ আলী। রয়ে সয়ে এগিয়েছেন দুজন। দলের চাহিদা মিটিয়ে বের করেছেন রান। সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি বের করেছেন। সঙ্গে সিঙ্গেল, ডাবলসে ভর করে এগিয়েছেন জয়ের দিকে। শেষমেশ মেহেদী-আসিফের জুটিতে চড়েই জয়ের বন্দরে চলে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস।
দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন মেহেদী। ৩৬ বলে ৪৯ রান করে টিকে ছিলেন শেখ মেহেদী। ৩০ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন আসিফ আলী। ১৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয়লাভ করে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
নোয়াখালীর হয়ে এদিন ইহসানউল্লাহ নেন ২ উইকেট। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট লাভ করেন হাসান মাহমুদ, জাহির খান এবং সাব্বির হোসেন। বল হাতে দারুণ নৈপূণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন শরিফুল ইসলাম।