শিরোনাম
◈ শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকের বৈঠক নিয়ে মুখ খুলল ভারহত ◈ বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার অস্তিত্বকে ধারণ করতে হবে: আসিফ নজরুল ◈ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার তৎপরতা পর্যাপ্ত নয়: আসিফ মাহমুদ ◈ শরিয়াহ আইনের দিকে যাবে না জামায়াত, অবস্থান বদল নাকি ভোটের কৌশল? ◈ রাষ্ট্রের কাছে যা চাইলেন শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী ◈ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও ইসরাইলের নেতাদের ফোন করলেন পুতিন ◈ ঋণ কেলেঙ্কারি: ক্ষতির বোঝা সাধারণ আমানতকারীর ঘাড়ে ◈ ছাত্রদল কর্মীকে হত্যার ঘটনায় দম্পতি গ্রেপ্তার ◈ ২০২৫ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অ্যাথলেট পর্তুগিজ তারকা রোনাল‌দো ◈ তিন হা‌রের কার‌ণে সোহানকে সরিয়ে রংপুরের নেতৃত্বে লিটন দাস

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল
আপডেট : ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঋণ কেলেঙ্কারি: ক্ষতির বোঝা সাধারণ আমানতকারীর ঘাড়ে

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একটু মুনাফার আশায় ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করেন। তারা নিশ্চিন্ত থাকেন, বিপদের দিনে এই টাকা তাদের স্বস্তি দেবে। কিন্তু তাদের এই স্বস্তি এখন অস্বস্তিতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কষ্টের টাকা কোথায় জমাবেন তা নিয়ে এখন বারবার ভাবতে হচ্ছে।

কারণ মুনাফা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে আসল টাকা ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি আর্থিকভাবে ভালো অবস্থায় আছে মনে হওয়া অনেক ব্যাংক তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

অথচ কথা ছিল আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন হবে নিয়মিত ও নির্ভার। তবে ঘটনা ঘটছে এর বিপরীত, টাকা জমা রেখে ফেরত পাওয়ার বিষয়টি এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমরা দেখেছি, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ডেসটিনি ও যুবকের মতো পঞ্জি স্কিম ও মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা হয়েছে। এর পেছনে কারণও ছিল, এখানে কোনো শক্তিশালী তদারকি প্রতিষ্ঠান ছিল না।

ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। কারণ এগুলোর একটি নিয়ন্ত্রক ও তদারকি প্রতিষ্ঠান আছে, বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তাই নয় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আছে।

বর্তমানে ৬১টি ব্যাংক ও ৩৫টি এনবিএফআই তদারকি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানত গ্রহণ বা ঋণ বিতরণ করতে হলে যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স প্রয়োজন হয়।

১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব ছিল আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা।

তবে আমানতকারীদের প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যেমন টাকা তুলতে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা, শাখায় ভিড়, কিস্তিতে কিস্তিতে টাকা ফেরত ইত্যাদি। অথচ এগুলো হওয়ার কথা ছিল না। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আওয়ামী সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। গণঅভুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার ঋণ কেলেঙ্কারি ও অনিয়মে ভুগতে থাকা দুর্বল পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।

এই একীভূতকরণের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়। এই ব্যাংকটিতে সরকার পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

একীভূতকরণের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বছরের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা ধাপে ধাপে টাকা ফেরত পাচ্ছেন।

কিন্তু কথা কি তাই ছিল? কথা ছিল আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ সময়মতো একসঙ্গে ফেরত পাবেন। এভাবে খণ্ড খণ্ড কিস্তিতে পাওয়ার কথা ছিল না।

তারা এসব ব্যাংকে টাকা রেখেছিলেন বিশ্বাস করে, ভালো কিছুর প্রত্যাশায়। তারা ভেবেছিল, এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো। অথচ ফরেনসিক অডিটে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।

এখন প্রশ্ন হলো—এই প্রতারণার দায় কার?

অর্থ উপদেষ্টা সম্প্রতি বলেছেন, যারা এই ব্যাংকগুলোর প্রকৃত অবস্থা আড়াল করে ভালো দেখিয়েছিলেন, সেই অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে যাচ্ছে ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত
কিন্তু সেই ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে এবং কীভাবে নেওয়া হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ক্ষতির প্রেক্ষাপটে পাঁচটি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থিতি অনুযায়ী আমানতের হিসাব পুনর্গণনা করতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতকারীরা কোনো মুনাফা পাবেন না।

এদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই সিদ্ধান্ত শরিয়াহ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ ক্ষতির ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা বণ্টন করা হয় না।

তিনি বলেন, 'তবে আমানতকারীরা তাদের পুরো মূলধন ফেরত পাবেন।'

যাদের আমানত ২ লাখ টাকার বেশি, তাদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পেতে অন্তত ২৪ মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে।

নীতিগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য ঠিক। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত এবং যারা ব্যাংক ও এনবিএফআই থেকে অর্থ লুটে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকার কি যথাযথ উদ্যোগ নিতে পেরেছে?

এই প্রশ্ন থেকেই যায়!

অন্যদিকে যারা এসব ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে, তারা এখনো বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ আমানতকারীদের। এখানে আমানতকারীদের দায় কী? উৎস: ডেইলি স্টার।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়