শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:৩৫ বিকাল
আপডেট : ০৪ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:৩৫ বিকাল

প্রতিবেদক : শাখাওয়াত মুকুল

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জাতীয় ঐত্যিহের অংশ: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম

শাখাওয়াত মুকুল: শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্মীয় উৎসব সাম্প্রদায়িক সীমানা অতিক্রম করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক বৃহত্তর শুভেচ্ছার প্রাঙ্গনে মিলিত করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের জাতীয় ঐত্যিহের অংশ। 

সুদীর্ঘকাল ধরেই উপমহাদেশে ধর্মীয় এই শারদীয় উৎসবটি পালিত হয়ে আসছে। এই উৎসবে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সব মানুষেরই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।  

মঙ্গলবার এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব নানা সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করে নানাভাবে। এই উৎসব বাংলাদেশের একটি শাশ্বত সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসব জাতি-রাষ্ট্রে সর্বমানুষের মিলন ক্ষেত্র। উৎসবের অন্তর্লোক হচ্ছে-শান্তি ও সহবস্থান। উৎসবের পরিসর বৃত্তাবদ্ধ নয় বরং বিস্তৃত ও সার্বজনীন । 

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের আমলে সাম্প্রদায়িক উস্কানী, বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবালয়ে আক্রমণ, প্রতিমা ভাংচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির জুলুম, সন্ত্রাসের নানা মাত্রা এবং আবশ্যকীয় জিনিসপত্রের অভিঘাত সত্বেও দুর্গাপূজার মতো বড় ধর্মীয় উৎসব দেশের জনগোষ্ঠীকে সৌহার্দ্য ও শুভেচ্ছাবোধে উদ্দীপ্ত করে। যেকোন বড় উৎসব জাতীয় জীবনে সংস্কৃতির দোত্যক।

তিনি বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে বাংলাদেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে একত্রে বসবাস করছে। আমরা সবাই বাংলাদেশি-এটিই আমাদের গর্ব, এটিই আমাদের একমাত্র পরিচয়। আমি শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক সাফল্য কামনা করি।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাসভবনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের মানুষ সবসময় অসাম্প্রদায়িক দেশ নির্মাণ করার জন্য কাজ করেছে। 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ করি সেই সময় হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলে একযোগে এদেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করার জন্য, এদেশে মানুষের অধিকার রক্ষার আস্থা নির্মাণ করার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। পরবর্তীতে সেটার জন্য কাজ করেছি। দুর্ভাগ্য আমাদের আজকের স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আমাদের সেই যে আশা-আকাক্সক্ষা সেটা দেখছি না। 

মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রেখেছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। আমাদের অসংখ্য লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। 

তিনি বলেন, সমগ্র দেশের মানুষকে একটি দানব সরকার যখন নির্যাতন করছে সেই সময় এই উৎসবের মধ্যে, অনেক দুঃখ কষ্টের মধ্যেও আমরা আজকে শপথ নেব এই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার। আগামী দিনে অতি দ্রুত আমরা এই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে সত্য ন্যায়, সাম্য মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত করব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়