শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৪১ রাত
আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০২২, ০৭:০৪ বিকাল

প্রতিবেদক : শাখাওয়াত মুকুল

কর্মসূচীর মধ্যেই মাঠে থাকবে বিএনপি

বিএনপি

শাখাওয়াত মুকুল: গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত মাঠ ধরে রাখার কৌশলে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভাগীয় গণসমাবেশ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যতই হামলা মামলা নির্যাতন করা হোক না কেন মাঠ ছাড়বে না তারা। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত ছোট বড় কর্মসূচীর মধ্যেই মাঠে থাকবে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে এমনই নির্দেশনা দেওয়া আছে বলে জানা গেছে।  

এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল ও রাজধানীর পর এবার ১০ বিভাগে গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ১০টি শক্তিশালী টিম। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি, সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকসহ জেলা নেতাদের রাখা হয়েছে এসব কমিটিতে। টিমগুলো ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিভাগীয় গণ সমাবেশ শেষে ঢাকায় বৃহত্তর মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। 

এদিকে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার লক্ষে পুরণো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটিও করা  হয়েছে। রাজনীতির মাঠ ধরে রাখতে ইতিমধ্যে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পুরণো কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে ঘোষণা করা হয়েছে ছাত্রদলের পুর্নাঙ্গ কমিটি এবং ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি। 

বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার বাহিরে থাকা দলের বহু ত্যাগী নেতা কর্মী নিষ্ক্রীয় হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে কার্যত রাজপথে দলের কোন আন্দোলন সংগ্রামের কোন ভূমিকা ছিলনা। ছাত্র ও যুবদলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী কমর্রে জন্য বিদেশও পাড়ি জমিয়েছেন। দেশে থাকা অনেক নেতা কর্মী বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। এতে করে কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়েছেন আবার কেউ কেউ বর্তমান অন্দোলন দেখে উজ্জিবিত হয়ে মিছিল মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন।

তারা বলছে, দীর্ঘ বছর ক্ষমতার বাহিরে থেকেও কমেনি দলের কর্মী সমর্থকের সংখ্যা। বরং আগের চেয়ে বর্তমান প্রজন্ম বিএনপির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এছাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ফলে কর্মী সমর্থকদের মনোবল বড়েছে দ্বিগুণ। এখন মনোবল ধরে রাখতে হলে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। 

এদিকে, যুবদলের চলতি বছরের ২৭ মে তারেক রহমানের নির্দেশে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে করে ফিরে আসে যুবদলের প্রাণ। সারাদেশে একের পর কর্মী সভা করে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখে চলছে যুবদল। যুবদলের সভাপতি সলতান সালাহ উদ্দীন টুকু বলেছেন রাজপথে থেকেই তারা সরকার পতন ঘটাবে। এছাড়া, নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিশোধে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরবো না। 

অপরদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলে এসএম জিলানীকে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজিব আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটি শুরু করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা। যে কোন পরিস্থিতিতে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থাকার জন্য কর্মী সমর্থকদের সাহস দিয়ে যাচ্ছেন এই কমিটি। এতে করে কর্মীদের মাঝে প্রাণচঞ্চলতা ফিরে এসেছে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্প্রতি একটি সমাবেশে বলেন, ভয় দেখিয়ে লাভ নাই। পাকিস্তান আর্মি আমাদের মারতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারও মারতে পারবে না। বিএনপি রাস্তায় নেমেছে গণতন্ত্র উদ্ধার করার জন্য। যদি মরতে হয় তাহলে গণতন্ত্রের জন্য মরবো। 

এদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপির ১০ সাংগঠনিক বিভাগে গণ-সমাবেশ ও ঢাকায় মহা সমাবেশ করা হবে ১০ ডিসেম্বর। 

ফখরুল বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে চলমান আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্তা বেড়েছে। গণআন্দোলন সৃষ্টির মাধ্যমেই সরকার পদত্যাগ করবে।  আমরা গণতান্ত্রিক কর্মসূচী দিচ্ছি। কেউ আন্দোলনে হামলা করলে জনগণ প্রতিরোধ করবে। এখন পর্যন্ত আমরা কোন সমাবেশ বাতিল করিনি। আমাদের আন্দোলন দেখে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ পিছু হটেছে। এটা জনগণের বিজয়। এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়