শিরোনাম
◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম ◈ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত: পাকিস্তানকে রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা ◈ এবার লাইভে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন সালমান মুক্তাদির! (ভিডিও) ◈ অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে: ৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসিতে জামায়াতের প্রস্তাব

কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এখন দলটির নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা–কর্মীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় যুক্ত করত হবে, এই প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে এই প্রস্তাব জানায়।

জানতে চাইলে দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কোনো পর্যায়ের নেতার স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। ইসিকে পাঠানো চিঠিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কাউকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

advertisement

এর পাশাপাশি আরও কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আশা করা যায়, ইসি এই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করবে।’

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরের বছর দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ইসি আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করায় গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

বর্তমান সরকার আগামী অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভোটের পরিকল্পনা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা ওঠে। কেননা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নানা মত আসার পটভূমিতে সম্প্রতি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদে এই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এর কোনো স্পষ্ট জবাব আসেনি। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে না। সে কারণে নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিমালা প্রস্তুত করে তার ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চায় ইসি। সেই মতামত জানিয়ে দেওয়া চিঠিতেই আওয়ামী লীগের কারও এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতে ইসলামী আরও যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো হলো—নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হলেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, এটি নিষিদ্ধ করার বিধান সংযোজন; স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিযুক্ত কোনো প্রশাসক বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদে নিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করা; নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা।

প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রাখার পাশাপাশি প্রার্থীর আপিল করার সুযোগও বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা; নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিসে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান সংযোজন করা; স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান সংযোজন করা।

দুটি বিশেষ প্রস্তাবও দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তার একটি হচ্ছে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্যপদে সরাসরি নির্বাচন। অন্যটি হচ্ছে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে কারা ভোটার হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা। উৎস: প্রথম আলো।

 

  • সর্বশেষ