শিরোনাম
◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম ◈ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত: পাকিস্তানকে রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা ◈ এবার লাইভে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন সালমান মুক্তাদির! (ভিডিও) ◈ অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে: ৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬, ০১:৩৫ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধের শহীদ’ বলা জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে

নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের’ সন্তান বলে সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্যের পর তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জানা গেল তার জন্ম ১৯৮১ সালে।

নীলফামারী ৪ আসনের এ সংসদ সদস্য রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালে সম্পূরক বাজেটের আলোচনাকালে ‍মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরিবারের অবদান ছিল দাবি করে বলেন, তার বাবা একজন ‘যুদ্ধে শহীদ’।

৪৫ বছর বয়সি এই সংসদ সদস্যের নিজের বাবাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘শহীদ’ দাবি করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরসও ছড়িয়েছে।

তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই- চারজন মুক্তিযোদ্ধা; আমার দাদারা ১৯ জনের ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা।

advertisement

“আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকদের একজন কিন্তু আমি আজকে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই কেউ অনেক কিছু বলে ফেলে।”

তার বক্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া এ সংসদ সদস্যের বাবা ‘যুদ্ধশহীদ’ হন কীভাবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আব্দুল মুনতাকিমের দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে হিসাবে তার বয়স ৪৫ বছরের কিছু বেশি। তার বাবার নাম মো. আব্দুল কাদের সৈয়দী।

এ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুনতাকিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার বাবা এখনও আছেন। আমার দাদা যুদ্ধ শহীদ। তিনি আমার বাবার চাচা।

“আমি বোঝাতে চেয়েছি আমার বাবা-দাদাদের মধ্যে যুদ্ধে শহীদ আছেন। আমি আক্ষরিকভাবে আমার বাবা যুদ্ধে শহীদ তা বোঝাইনি।”

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যাচার কাম্য নয়। তারওপরে একজন আইন প্রণেতার জাতীয় সংসদে এ ধরনের বিকৃত তথ্য উপস্থাপন কোনভাবেই কাম্য নয়।

“এরমাধ্যমে তারা আবার প্রমাণ করলেন, তারা কী রাজনীতি করেন।”

লেখক আখতারুজ্জামান আজাদ মঙ্গলবার তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আব্দুল মুনতাকিমের দাবি অনুযায়ী তার দাদাও ‘যুদ্ধে শহীদ’, বাবাও ‘যুদ্ধে শহীদ’। মুনতাকিমের দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হতেই পারেন, এটি অসম্ভব নয়। এমনও হতে পারে–আলোচ্য দাদা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হওয়া দাদাদের নাতিরাও নিজ-নিজ দাদাকে ‘যুদ্ধে শহীদ’ দাবি করতেই পারেন। যেসব দাদা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করে মুক্তিযুদ্ধের হাতে ধরা পড়ে নিহত হয়েছেন, নিজ-নিজ দাদাকে ‘যুদ্ধে শহীদ’ দাবি করা থেকে তাদের নাতিদেরকে নিবৃত্ত করার আইনি সুযোগ নেই।

“চট্টগ্রামের সূর্য কুমার সেন উপমহাদেশের জনসাধারণের কাছে মাস্টারদা এবং শহীদ, কিন্তু ইংরেজদের কাছে সন্ত্রাসী। পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে এসে যুদ্ধ করতে চাওয়া মতিউর রহমান বাংলাদেশের কাছে বীরশ্রেষ্ঠ, কিন্তু পাকিস্তান ও জামায়াতে ইসলামীর কাছে গাদ্দার; বিমান ছিনতাইয়ে মতিউর রহমানকে বাধা দিয়ে নিহত হওয়া রশিদ মিনহাজ বাংলাদেশের কাছে পাকসেনা, কিন্তু পাকিস্তান ও জামায়াতে ইসলামির কাছে বীর শহীদ। ফলে, মুন্তাকিমের দাদা যদি একাত্তরে নিহত হয়ে থাকেন, তা হলে তিনি যাদের হাতেই নিহত হন না কেন; কোনো-না-কোনো মাপকাঠিতে তিনি নিশ্চয়ই ‘শহীদ’।"

  • সর্বশেষ