‘একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের (এমপি) যেমন অবস্থান থাকে, আমার অবস্থানও তেমনই থাকবে। আমি কখনও কোনও অন্যায়কে অন্যায় দেখে চুপ থাকিনি। আমি যখন দলে ছিলাম, তখন আমি চাঁদাবাজি, জুলুম, অত্যাচার এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। সরকারে কে আসলো, আর কে গেলো সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমি সরাইল-আশুগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করছি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এর প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার এলাকার স্বার্থ, আমার মানুষের স্বার্থ সবার আগে।’
দলগতভাবে বিএনপি সংসদে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কেমন হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন। শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুর নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমের কাছে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নেতাকর্মীদের জয়ের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমার এই জয় আমার নির্বাচনি আসনের সবাইকে উৎসর্গ করলাম।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে, চলাকালে এবং নির্বাচনের পরে আমার দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে– “বিএনপি ক্ষমতায় যাচ্ছে, আপনাদের দেখে নেওয়া হবে।” তারপরও আমি বলবো, আপনারা শান্ত থাকুন, যারা হুমকি দিচ্ছে, তারা হুমকি দেয়। তারা কখনও জয়ী হয় না। আপনারা জয়ী হয়েছেন, আপনারা শান্ত থাকবেন। আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে, সরাইল আশুগঞ্জ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। একসঙ্গে যেন আমরা একটা মডেল উপজেলা করতে পারি।’
দলগতভাবে যদি বিএনপি আপনাকে আমন্ত্রণ জানায়, সেক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে? এ প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আগে আমন্ত্রণ জানাক, তখন দেখা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের কলঙ্কের ইতিহাস ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে এসে একই জিনিস আমার সঙ্গে হতে পারতো। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতো। যদি অসম্ভব রকম নিরপেক্ষতার সঙ্গে কোন দল, কোন ব্যক্তি না দেখে তারা র্যাপিড অ্যাকশনে গেছে। এই আসনে বিএনপি যথেষ্ট কারচুপির চেষ্টা করেছে। বিএনপির লোকাল নেতারা মানুষকে ঘরে ঘরে গিয়ে ভয় দেখিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতারা রাতে গিয়ে টাকা বিলি করেছেন। বিএনপির নেতারা প্রত্যন্ত এলাকার ভোটকেন্দ্র ধামাউড়া, দুবাজাইল কেন্দ্রে ভোট ছাপিয়েছে এবং তারা ফলাফল বিভিন্ন কেন্দ্রে আটকে রেখেছে। গতকাল সরাইল উচালিয়া পাড়ায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আমি কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে পাঁচবারের মতো ফল গণনা করতে বাধ্য করেছি।
‘আমি শুভেচ্ছা জানাই, যারাই ভালো ফল করেছে, দল হোক ব্যক্তি হোক, যারা যারা ভালো ফলাফল করেছে, অবশ্যই তাদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে। আমি আশা করবো, প্রত্যেকেই তার অবস্থান থেকে তার শপথ অনুযায়ী যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সেটা তারা পালন করবেন।’
বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি ঘরের মেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, আমি তো ঘরেই আছি। ঘরের মেয়ে তো বাইরে যায়নি। আমি যদি গিয়ে সিলেট থেকে নির্বাচন করতাম, তাহলে বলতেন ঘরের মেয়ে বাইরে গেছে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আছি। আমার দল তো আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছে। আমার দল বলতে কিছু নেই, এটা তারেক রহমান সাহেবের দল। তিনি তো আমাকে বহিষ্কারই করে দিয়েছেন। এটা তো আমার দল না।
‘দলের লড়াই-সংগ্রাম ছিল ভোটের আন্দোলনের জন্য। আমাদের একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের জন্য সে আন্দোলনে আমি শরিক ছিলাম। দলের ১৮ মাসের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি, কী করে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা যায়, কী করে লুট করা যায়, কী করে জমি দখল করা যায়, ব্যবসা দখল করা যায়, বালুর ব্যবসা করা যায়, কী করে দুর্নীতি করে পয়সা কামানো যায়, কী করে তদবির বাজি করা যায়, কী করে চাঁদাবাজি করা যায়– এখন আপনারা কি বলতে চান আমি ওইগুলোর সঙ্গী হবো? তা তো নয়, নিশ্চয়ই। আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের। আমি আশা করব তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে ভুলগুলো করেছে তার পুনরাবৃত্তি তাদের হবে না। গত দেড় বছরে তারা নানারকমভাবে তারা মানুষকে বিরক্ত করেছে, সেটার আর পুনরাবৃত্তি হবে না।’
জামায়াত সংসদে যাবে কিনা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন, এ প্রসঙ্গে রুমিন বলেন, ‘আমরা তো এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচনটা করলাম এবং আওয়ামী লীগসহ যে বাম দলগুলো আছে, তারা তো এই মুহূর্তে সংসদে নাই এবং জাতীয় পার্টি কয়টি আসন পেয়েছে সেটিও জানি না। তাহলে বিরোধী দলে কাউকে তো থাকতে হবে। সেটা কীভাবে হবে, সেটিও একটা বড় প্রশ্ন। দেখা যাক সময় বলবে।’ উৎস: বাংলাট্রিবিউন।