ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি এবং জামায়াত ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এখন সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথের অপেক্ষা। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই জানতে চান, একজন এমপির ক্ষমতা এবং তার কাজের পরিধি কী?
সংবিধান অনুযায়ী, এমপিদের ক্ষমতা হচ্ছে আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা। এছাড়া, একজন এমপি তার নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে ক্ষমতাশালী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা, নানা ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনীসহ প্রায় ৪০ ধরণের প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্প থেকে কারা সুবিধা পাবেন সেটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
এছাড়া এলাকার শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসহ নানা ধরণের প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সংসদ সদস্যদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকে।
যদিও অতীতে বিভিন্ন সময় অনেক এমপির বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের ওপর এমপিদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকে বলে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।
এদিকে সংবিধানের পঞ্চম ভাগে ১ম পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে-
৭৮। (১) সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(২) সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর উপর সংসদের কার্যপ্রণালীনিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে, তিনি এই সকল ক্ষমতাপ্রয়োগ সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোন আদালতের এখতিয়ারের অধীন হইবেন না।
(৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য কোন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৪) সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে কোন রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৫) এই অনুচ্ছেদ-সাপেক্ষে সংসদের আইন-দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটিসমূহের এবং সংসদ-সদস্যদের বিশেষ-অধিকার নির্ধারণ করা যাইতে পারিবে। উৎস: সময়নিউজটিভি।