লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত ফলে দেখা গেছে, তিনটি আসনেই বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম)- এই আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিষ্টার হাসান রাজিব প্রধান ৯২ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৮৯ ভোট।
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ)- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৬ ভোট।
লালমনিরহাট-৩ (সদর)- বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু ১ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট আবু তাহের (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৭ ভোট।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় লালমনিরহাট-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই বিজয় কেবল আমার নয়, এই বিজয় লালমনিরহাটের শোষিত ও বঞ্চিত সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের বিজয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসন ও ভোটাধিকার হরণের পর আজ মানুষ নির্ভয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পেরেছে। আমি আপনাদের পাহারাদার হয়ে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমৃত্যু কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে লালমনিরহাটের আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র লড়াই হলেও মাঠে সক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও লেবার পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
লালমনিরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার কোনরকম বিশৃঙ্খলা ছাড়া জেলার সব জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সাধারণ ভোটার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।