জাহিদ হাসান, জামালপুর প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি আসনের পাঁচটিতেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারী সারাদিন জেলার পাঁচটি আসনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা বিরতিহীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকে শান্তিপূর্ণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বাড়ি ফিরে অপেক্ষা করতে থাকে ফলাফলের আশায়।দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারী মধ্যরাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
জামালপুর -১(দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ১লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী'র নাজমুল হক সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৭ হাজার ৮২০ ভোট পায়।আসনটির ১২৯টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ৪লক্ষ ৩১ হাজার ৭০৭জন।
জামালপুর-২(ইসলামপুর) আসনে বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু ধানের শীষ প্রতীকে ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছামিউল হক ফারুকী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৬২হাজার ৪৩৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।১৭১২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ। আসনটির মোট ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন।
জামালপুর-৩(মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর -৩(মেলান্দহ- মাদারগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
জামালপুর -৩ আসন থেকে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে দুই লাখ সাত হাজার চারশত বারো ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাও: মজিবর রহমান আজাদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট।
আসনটিতে মোট নয় জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। জাতীয় পার্টির মীর সামসুল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দৌলতুজ্জামান আনসারী, গণ অধিকার পরিষদের লিটন, গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈমসহ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ কাপ পিরিচ প্রতীকে, একমাত্র নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা ফরিদ ফুটবল প্রতীকে এবং শিবলুল বারি রাজু সূর্য মুখী ফুল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে।এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫লাখ ৩২হাজার ৮০৮ জন।পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৯হাজার ৯১৬জন,নারী ভোটার ২লাখ ৬২হাজার ৮৮৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৬ জন।আসনটিতে ১৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে মেলান্দহের ৯২টি এবং মাদারগঞ্জের ৬২টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ৯৭৪টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়।
জামালপুর-৪ আসনেও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল কবির তালুকদার ১লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল আওয়াল ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। একই আসনে কমিউনিস্ট পার্টির মাহবুব জামান জুয়েল কাস্তে প্রতীকে ১৩১৪ ভোট পেয়েছেন।
৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮জন ভোটারের জামালপুর-৫ আসনটি জামালপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ঐ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১লক্ষ১৩ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ'র প্রার্থী সৈয়দ ইউনূস আহাম্মদ ৪হাজার ২৮২ পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।