শিরোনাম
◈ ১৫৭ বিদেশি বন্দিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হাইকোর্টের নির্দেশ ◈ শুক্রবার কমছে সয়াবিন তেলের দাম ◈ ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে চুপ থেকে বিএনপি-জামায়াত গাজায় গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘেরও ১৫ বছর আগে শিশু আইন প্রণয়ন করেন: আইনমন্ত্রী  ◈ বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচের সময় চূড়ান্ত করলো বিসিবি ◈ সাবেক স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ চিকিৎসক লতা মারা গেছেন ◈ সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ঔষধ-পত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ বিদ্যুতের দাম বাড়ছে ৮.৫০ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতেই কার্যকর ◈ ২ দিনের রিমান্ড শেষে ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ কারাগারে ◈ বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ছিটেফোটাও নেই: রিজভী

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০১:২১ রাত
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০১:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তানে নির্বাচন ও আমাদের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

কাকন রেজা 

কাকন রেজা: বিস্মিত হই না, কিন্তু একধরনের মজা পাই, যখন বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তাও ঠিক করে দেবেনÑ এমন কথা। তারা পাকিস্তান নিয়ে বলতে পারেন, কিন্তু নিজ দেশ নিয়ে কথা বলতে গেলেই শিবের গীত গান এবং তা ধান ভানতে গিয়েও। এ কথায় পরে আসছি, আগে বলছি পাকিস্তান নিয়ে আমার প্রিয়জন, বন্ধু ই-সাউথ এশিয়ার প্রধান সম্পাদক মাসকাওয়াথ আহসানের বিশ্লেষণ নিয়ে। তিনি পাকিস্তানের করাচিতে বসে, বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন সরাসরি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিয়ে। সে কথা ছিলো সেনাবাহিনী সম্পর্কে পাকিস্তানের মানুষের মনোভাব নিয়ে এবং তার কথার ধারা সেনাবাহিনী বিষয়ে খুব একটা ইতিবাচক ছিলো না। আর তা বলেছেন নির্ভয়েই এবং খোদ পাকিস্তানের করাচিতে বসেই। এই নির্ভয় থাকার পরিবেশটাই বড় কথা। পাকিস্তানে সেনাবাহিনী মানেই ক্ষমতাকেন্দ্র। দেশভেদে ক্ষমতাকেন্দ্র আলাদা হয়। সে হিসেবেই পাকিস্তানের চিত্রের সাথে নিজেদের দৃশ্যপট মিলিয়ে নিলে কী মনে হয়? প্রশ্নটা রেখে পাকিস্তানের ভোটের আলাপে চলে যাই। 

পাকিস্তানের ভোটকে বলা হচ্ছে ভোটার বিদ্রোহ। পাকিস্তানে ইমরান খানের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের প্রতীক। এটা কেন হয়েছে, এর পেছনের কারণ নিয়ে এর আগেও অনেক কথা হয়েছে সেদিকে না গিয়ে ভোটের দিকে যাই। মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন, ভোটাররা ভোট দিতে গিয়েছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এই স্বতঃস্ফূর্ততার কারণ ছিলো, ভোটাররা জানতেন তারা ভোট দিতে পারবেন, তাদের বাধা দেওয়া হবে না। আর নির্বাচনটাও ছিলো অংশগ্রহণমূলক। আর নির্বাচনকালীন ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অর্থাৎ সেনাবাহিনী বা বাইরের শক্তি ইমরানকে মূলত বিতর্কিত করে, তাকে অজনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু ভোটকে রাতের ভোট বা একপাক্ষিক ভোটে পর্যবসিত করতে চায়নি। ফলেই ভোটটা হয়েছে। যে কারণে দল নিষিদ্ধ হলেও, প্রতীক কেড়ে নেয়া হলেও ভোটে ইমরান খান সমর্থিতরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছেন। যদিও ফল প্রকাশের বিলম্ব নিয়ে কিছুটা কথা উঠেছে। বলা হয়েছে, কিছু আসনে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ কথা কেউ বলেননি যে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো গণ্ডগোল ছিলো। প্রশাসনের সহায়তায় কেন্দ্র দখল করে ভোট প্রদানের কোনো চিত্র দেখা যায়নি পাকিস্তানে। দেখা যায়নি রাতের ভোটের চিত্রও। ১৯৭০ এর নির্বাচনেও এমন ঘটনা ঘটেনি একিভূত পাকিস্তানে। সে নির্বাচনে জনগণের ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছিলো আওয়ামী লীগের। ভোটে কারচুপি হলে, লাইলাতুল ইলেকশন হলে তা সম্ভব ছিলো না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় যেতে না দেয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত শুরু হয় তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানবাসীর আন্দোলন এবং এক পর্যায়ে যা স্বাধীনতার দাবীতে পরিণত হয়। যার ফলশ্রুতিতেই ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদশের অভ্যুদয় ঘটে। কিন্তু কথা হলো, ১৯৭০ সাথে ভোটটা কিন্তু সঠিকই ছিলো।  

এবারও পাকিস্তানে ভোটটা সঠিক ছিলো। সেনাবাহিনী ও বাইরের শক্তি যা করার চেষ্টা করেছিলো তাহলো, ইমরান খানকে বিতর্কিত করে অজনপ্রিয় করে তোলা। এজন্য তারা সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করেছে। ইমরানকে জেলে দিয়েছে। বিচারে শাস্তি দিয়েছে। ইমরানের দলকে নিষিদ্ধ করেছে। দল থেকে নেতাদের ভাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসবই করা হয়েছে ক্ষমতার বলয়ে বসে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায়। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে জনগণের মধ্যে পড়েছে তার উল্টো প্রভাব। ইমরানকে অজনপ্রিয় করার প্রজেক্ট পরিণত হয়েছে বুমেরাংয়ে। ক্ষমতাহীন, জেলবন্দি ইমরান আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। তার ভুলগুলো মানুষের কাছে গৌণ হয়ে উঠেছে। মুখ্য হয়ে উঠেছে জুলুম। ইমরান পরিণত হয়েছেন মজলুমে। মানুষ জুলুমের বিরুদ্ধে ইমরানকে নেতা মেনে নিয়েছে। শুধু পাকিস্তান নয়, সারাবিশ্বের ইতিহাস দেখতে গেলে এমনটাই দেখা যায়। নির্যাতিতদের পক্ষে দাঁড়ায় জনগণ, আর নির্যাতকদের পক্ষে ক্ষমতাকেন্দ্র। কিন্তু শেষমেশ জয় হয় কিন্তু জনগণেরই। জনরায়, সেটা ভোটের মাধ্যমেই হোক বা আন্দোলনের মাধ্যমেই হোক, তাকে উপেক্ষা করা হয় ক্ষমতাকেন্দ্রের নিজ পায়ে কুড়োল মারার সমান। 

লেখক : সাংবাদিক ও কলামনিস্ট

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়