শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০২৩, ০২:২৭ রাত
আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০২৩, ০২:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধ্যানী যোগীর মতো একের পর এক সৃষ্টি করেছিলেন ইতিহাস

সাদিয়া নাসরিন

সাদিয়া নাসরিন: কিছু মানুষ সময়ের আগে জন্মান। অথবা বলা যেতে পারে, কিছু মানুষ সময়কে নিজের অনুকূলে নির্মাণ করেন। গল্পের মতো শোনালেও সত্য যে, আমাদের এই বিবমিষ্য বর্তমানের দেশে এরকম কিছু সোনার মানুষ জন্মেছিলেন সোনালী অতীতে। শামীম শিকদার তেমন একজন মানুষ। পেশা এবং নেশায় ভাস্কর শামীম শিকদার জৈবিক লিঙ্গে নারী।

যে দেশে নারী মানে পুরুষতন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া ঢেঁকি, সেই দেশে আজ থেকে কতো কতো বছর আগে পুরুষের বানানো এসব তন্ত্র-ফন্ত্রকে সিগারেটের ধোঁয়ার ফুৎকারে উড়িয়ে দেয়া এই নারী, ভাস্কর শামীম শিকদার। আজকের বাংলাদেশে চিত্রকলা প্রায় নিগৃহীত, অতীতেও খুব বেশি ওয়েলকামড পেশা ছিলো না।

কিন্তু সেই দেশেই ভাস্কর্যকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেন শামীম শিকদার। এলেন, কাজ করলেন এবং জয় করলেন। ধ্যানী যোগীর মতো একের পর এক সৃষ্টি করলেন ইতিহাস। টিএসসি সড়কদ্বীপে ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’, জগন্নাথ হলের মাঠে দাঁড়ানো ‘বিবেকানন্দ’, এফডিসির ‘বাঁশি হাতে নজরুল’, চারুকলার বকুলতলায় ‘রঙ তুলি হাতে জয়নুল আবেদীন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্রাগলিং ফোর্স’, জগন্নাথ হল আর বুয়েট সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ এবং নিউ ইস্কাটনের ভাস্কর্যবাগান, যেখানে আছে বঙ্গবন্ধু ও ভয়ংকর রাজাকারদের ভাস্কর্য সহ বিশ্বের অন্যান্য ব্যক্তিদের ভাস্কর্য। 
এছাড়াও দেশে বিদেশে আরও অনেক ভাস্কর্য শামীম শিকদারের নাম উচ্চারণ করবে যুগের পর যুগ। ১৯৫২ সালে জন্মেছিলেন তিনি, মারা গেলেন ২১ মার্চ ২০২৩। চারুকলার ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ললিতকলা অনুষদের একজন ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন। ‘ইনার ট্রুথ অব স্কাল্পচার : আবুক অন্য স্কাল্পচার’, ‘স্কাল্পচার কামিং ফরম হ্যাভেন, কনটেম্পোরারি আর্ট সিরিজ অব বাংলাদেশ’ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বই। কাজ করতেন সিমেন্ট, ব্রোঞ্জ, কাঠ, প্লাস্টার অব প্যারিস, কাদা, কাগজ, স্টীল ও গাস ফাইবার নিয়ে। এক হাতে হাতুড়ি বাটাল আর অন্য হাতে সিগারেট, গায়ে জিনস-শার্ট, পায়ে কেডস এবং পকেটে পিস্তল, এই হলো শামীম শিকদার। 

একবার এক ছেলে তাঁর ওড়না টান মেরে নিয়ে গিয়েছিল। এর পর থেকে আর ওড়না পরেননি, সালোয়ার কামিজ পরেননি, শাড়িও পরেননি। নিজেই ড্রাইভ করতেন। নারীসুলভ কমনিয়তার লোভে পড়েননি কখনোই, রুক্ষতাকে আলিঙ্গন করেছেন ভালোবেসে, হয়েছেন রুদ্র। সাহস ছিলো তাঁর জমজ বোন। সাহস আর রুক্ষতাকে সঙ্গে নিয়েই পাড়ি জমালেন অনন্তের দেশে। এই ক্ষয়ে যাওয়া, নিঃস্ব হয়ে আসা দেশে আমরা যে মানুষদের নিয়ে গর্ব করতাম, নিজেদের আইকন বানাতাম, সবাই চলে গেছেন। একে একে শুখাইছে ফুল এবে, নিবিছে দেউটি, এরপর, আমাদের সন্তানরা? তাদের জন্য কি কেউ আছে। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়