গালফ নিউজ: ভিয়েতনামের কু লং বেসিনে অবস্থিত হাই সু ভাংয়ের (এইচএসভি) ‘অ্যাপ্রেইজাল কূপ’ খননে বিপুল তেলের মজুত পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মারফি ওয়েল জানিয়েছে, এই কূপে অন্তত ৪৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে।
জার্নাল অব পেট্রোলিয়াম টেকনোলজি তথ্যানুসারে, প্রায় দুই দশকের মধ্যে আসিয়ান অঞ্চলে (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট) এটাই তেলের সবচেয়ে বড় মজুতের সন্ধান।
ভিয়েতনামের রাজধানী হো চি মিন সিটি থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে সমুদ্রে খনন করা কূপের দুটি রিজার্ভারে মোট ৪২৯ ফুট নেট অয়েল পে শনাক্ত করা গেছে।
পরীক্ষামূলক উৎপাদনে এই কূপ থেকে দৈনিক ৬ হাজার ব্যারেল ‘সুইট’ ক্রুড তেল পাওয়া গেছে।
গত ৬ জানুয়ারি মারফি অয়েল জানায়, কু লং বেসিনের ব্লক ১৫-২/১৭-এ অবস্থিত তাদের ‘অ্যাপ্রেইজাল কূপের’ দুটি রিজার্ভারে ৪২৯ ফুট নেট ওয়েল পে শনাক্ত করা গেছে।
মারফি অয়েলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক হ্যাম্বলি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, নতুন তেলের খনি আবিষ্কার তার কোম্পানির ভিয়েতনামে কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’।
১৯৮৬ সালে সোভিয়েত-ভিয়েতনাম যৌথ উদ্যোগে ভিয়েতনামে প্রথম তেল উৎপাদন শুরু হয়। এর মধ্য দিয়েই দেশটির তেল ও গ্যাস শিল্পের সূচনা ঘটে, যেখানে প্রাথমিকভাবে বিকে-২৪ প্ল্যাটফর্মের মতো স্থাপনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে শিল্পায়ন ও রিফাইনারি সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনামের তেল উৎপাদন কমে যায়। ২০০৫ সালে যেখানে দেশটি দৈনিক ৩ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করত, সেখানে গত বছর তা কমে ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলেরও নিচে নেমে যায়। একসময়ের তেল রফতানিকারক দেশটি ২০১৭ সাল থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
তবে নতুন এই কূপ এবং চলতি বছর যোগ হতে যাওয়া আরও দুটি কূপের মাধ্যম দেশটি পুনরায় তেলসম্পদের দিক দিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। পেট্রোভিয়েতনাম (৩৫ শতাংশ) ও এসকে আর্থনের (২৫ শতাংশ) সঙ্গে অংশীদারিত্বে এইচএসভি ‘অ্যাপ্রেইজাল কূপ’ খনন প্রকল্পে কাজ করছে।