শিরোনাম
◈ বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক, গবেষণায় দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় ◈ ঢাকায় অটোরিকশা-ই-বাইক চলাচলে নতুন নিয়ম, ৮ জোনে আলাদা রং ও নির্দিষ্ট সংখ্যা ◈ কিডনি-লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে নতুন সুযোগ, নিকটাত্মীয়ের বাইরে ‘ইমোশনাল ডোনার’ নিয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে যা আছে ◈ ১০২ ডিগ্রি জ্বরের স্ত্রীর কাছে পরোটা-মাংসের আবদার, সমালোচনার মুখে যা বললেন মুকিত জাকারিয়া ◈ বিদেশগামীদের ডলার কেনার সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক, মানি চেঞ্জারে মিলবে ৩ হাজার মার্কিন ডলার ◈ ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক আইন মানবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ আওয়ামী লীগের বিচার ও ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া কি সম্ভব ‘রিকনসিলিয়েশন’? যা বললেন বিশেষজ্ঞরা ◈ ৭ মাসে ৩২ কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস; ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপের লক্ষ্য ◈ জেলখানায় গণ্ডগোলের ছকে আ.লীগ, শেখ হাসিনাকে নিয়ে নতুন গোলমালে দিল্লি ◈ স্ক্যামার নাকি ভিকটিম? 'স্ক্যাম সিটি'র অন্ধকার দুনিয়া, মিয়ানমারের সাইবার ক্রীতদাসদের গল্প (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ০১:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিপ্লবী সাহিত্যের আসর ও কবি : স্মৃতি সত্তরের দশক

আফসান চৌধুরী

আফসান চৌধুরী: [১] সত্তরের দশকের কোনো এককালে একটি গোপন বাম পার্টি এক সাহিত্য সভার আয়োজন করে। তারা বাইরের লোক হিসেবে আমাকে দাওয়াত করে। প্রথম বলেছিলো, আদমজী জুট মিলে হবে। পরে ঠিকানা পাল্টে এটা হয় কাটাবন বস্তিতে। আমি যাই উপেক্ষা করতে না পেরে। [২] ৮/১০ মানুষ বসা, এর মধ্যে সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক লোক ছিল। ৩০-এর কাছাকাছি বয়স। বললো, আত্মজীবনী লিখছে। আরেকজন নর্থ বেঙ্গল থেকে পালিয়ে আশা। চুপচাপ বসে সবাইকে দেখেছিলো। যাই হোক, যিনি দাওয়াত করেছিলেন তিনি দলের কালচারাল সেক্রেটারির মতো, সবাইকে বললেন বেশি হাল্লা-গোল্লা না করতে। লোক সন্দেহ করলে পুলিশ এলে বিপদে হবে সবার। আমি ভাবছিলাম, এরকম আয়োজনে দু’একজন নারী থাকলে ভালো হতো, সবার সন্দেহ কম হতো। 

[৩] যাই হোক কয়েকজন তাদের লেখা পড়লো, শুনলাম, সবাই বাহবা দিলো, আমি ছোট একটু আধটু কমেন্ট করলাম। তারপর সেই আত্মজীবনী লেখা মানুষটি তার ছড়া শোনালো। একটু মনে আছে, এক দুই লাইন। ‘ওই বুর্জোয়া শালা/তুই একটি দানব কালা। তোরে দিমু লাথি আর ডলা /শালা বুর্জোয়া শালা।’

[৪] এটা শুনে সবাই হাততালি দিলো, কিন্তু আমার ভালো লাগেনি। বললাম, এটা শ্লোগান হতে পারে, কিন্তু ছড়া হিসাবে অতো ভালো না। ওই লোক তো মহা আগুন। বলে আমি নিজেই বুর্জোয়া তাই পছন্দ হয়নি। অমনি আমার মেজাজ গেলো খারাপ হয়ে। দিলাম ঝাড়ি, সেও দিলো... আয়োজক ঝগড়া থামিয়ে চা-মুড়ির খাবার অর্ডার দিয়ে বলে, এই ছড়া বিচার করার জন্য তারা বিশেষ কমিটির কাছে পাঠাবে। সবাই এতে খুশি। [৫] চা খেতে খেতে সেই নীরব মানুষটিকে আয়োজক বললো, ‘আপনি তো লেখেন, শোনান না কিছু?’ কিছুটা বিব্রত ভাব নিয়ে সে একটা ছোট কবিতা পড়ে। দুই তিন লাইন মনে আছে।

[৬] এখন ভোর/কমরেডরা যাবে ক্ষেতে কাজ করতে/কারো হাতে কাস্তে, কারো হাতে পিস্তল/নারী কমরেড শাড়ির অঞ্চলে খাবার বাঁধে এই সকালে/সারাদিন তো আহার নেই তার। ঘরের সামনের পুকুরে হাঁসগুলা নীরবে সাঁতরায় যেন জলের পাখি/আলো নামে আমাদের কোমুনে। আমার পছন্দ হয়, আমিসহ সবাই খুব হাততালি দিই। লোকটা তেমনি বিব্রত চেহারায় বসে থাকে কিছু না বলে। 

[৭] কয়েক বছর পর তাকে আবার দেখি ইউনিভার্সিটি চত্বরে। তার মানসিক বৈকল্য। হাতে একটা কবিতার বই, খুব বাজেভাবে ছাপা। ওই পাড়ায় দু’একজন তাকে চিনতো, আমাকে চিনতে পারে। একটা বই দেয়। ওই কবিতাটা তাতে ছিল। কেউ না কেউ তাকে খাওয়াতো, চা সিগারেট দিতো। সারা দিন বসে থাকতো। একদিন এক ঠেলা গাড়ির শ্রমিকদের সাথে সেও হাত মেলায়, ঠেলতে ঠেলতে কোথায় হারিয়ে যায়। লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ