হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো গোদাম থেকে প্রায় ২ হাজার কেজি পণ্য উধাও হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা ৫৬টি কার্টনে থাকা মোট ১ হাজার ৯২১ কেজি পণ্যের এখনো কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। নথিপত্র অনুযায়ী, চালানটিতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল।
চালানটির আমদানিকারক হিসেবে নথিতে ‘শাহজালাল পেটস অ্যান্ড ফার্মিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ রয়েছে। তবে পোষা প্রাণীর ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ইলেকট্রনিক ও গার্মেন্টস পণ্য আমদানির বিষয়টি শুরু থেকেই সন্দেহ তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে সাভারের যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেখানে গিয়ে একটি ট্রাক মেরামতের ওয়ার্কশপ পাওয়া গেছে। আবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি ঠিকানা দেওয়া থাকলেও সেখানে গিয়ে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জালাল মৃধা চালানটি দেশে আসার মাত্র চার দিনের মাথায়, গত ২২ জুন ভারতের উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি ভারতের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
গোদামে ঢোকার পরই উধাও পণ্য
সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কার্গো লোডার মোরশেদ চালানটির কার্টনগুলো স্টোরেজে রাখছিলেন। এ সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘গুনগুন’-এর একজন প্রতিনিধিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু গোদামে রাখার পরপরই কার্টনগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে বিমানবন্দরের কার্গো গোদামের কয়েকজন কর্মকর্তা ও লোডারের আর্থিক লেনদেনের নথিও পাওয়া গেছে। এসব নথিতে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ‘বকশিশ’ হিসেবে অর্থ লেনদেনের তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। তৎকালীন ইমপোর্ট কার্গো স্টোরেজের দায়িত্বে থাকা সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মইনুদ্দিনের নামও এসব নথিতে উঠে এসেছে।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কার্গো লোডার মোরশেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে সহকারী ব্যবস্থাপক মইনুদ্দিন সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা ও রাজস্ব নিয়ে উদ্বেগ
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের অনিয়ম ও জবাবদিহিতার ঘাটতি অব্যাহত থাকলে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের মতে, কার্গো গোদামে পণ্য প্রবেশের পর কীভাবে প্রায় ২ হাজার কেজি পণ্য অদৃশ্য হয়ে গেল, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনা, সিসিটিভি নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ পণ্য কার্গো গোদাম থেকে বের হয়ে গেল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সূত্র: চ্যানেল ওয়ান নিউজ প্রতিবেদন