মনিরুল ইসলাম: ইতালির ভেনিসে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন-এর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “এই ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতালি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
আজ মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান রাজনৈতিক বক্তব্যে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখেন না, বরং “মাফিয়া গ্যাং” হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একটি মাফিয়া গ্যাংয়ের হামলার শিকার হওয়া প্রমাণ করে, বাঁধন সঠিক পথেই ছিলেন।”
ভেনিসে কী ঘটেছিল
স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিস শহরে অবস্থানকালে একদল প্রবাসী বাংলাদেশি অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বাঁধন জানান, তাকে লক্ষ্য করে পানি, কোমল পানীয় ও পচা ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার জেরে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী এ হামলায় জড়িত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে বাঁধনের দিকে তেড়ে যান এবং তাকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ভাই তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
লাইভে এসে আতঙ্কিত অবস্থায় বাঁধন বলেন, “আমার গায়ে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে, আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে। আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, কানের পাশে আঘাত করেছে।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে এবং ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে।
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন বাঁধন। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব-এ অংশ নিতে ইতালিতে অবস্থান করছিলেন তিনি।
সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি উভয় পর্যায়েই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি শিল্পীর ওপর এমন হামলার ঘটনা কেবল ব্যক্তি নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত। ফলে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।