শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৩:৩৬ দুপুর
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৩:৪১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেখ হাসিনাই ভরসা কারণ, বিএনপি ম্যানহোল দিয়ে গর্তে পড়ে গেছে!

দীপক চৌধুরী

দীপক চৌধুরী: রাজনীতি মানুষের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। কিন্তু এদেশের মানুষ প্রতিনিয়ত দেখে চলেছে যে, ক্ষমতার যাওয়ার জন্য কী রকম মিথ্যাচার, গুজব ছড়ানো আর অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এখন যারা সুশাসন, গণতন্ত্র, সুবিচার নিয়ে হাহাকার করছেন, পত্রিকায় কলাম লিখছেন,  টেলিভিশনের আলোচনা বা টকশোতে ঝড় তুলছেন তারা বাংলাদেশের অতীত সম্পর্কে একটি কথাও স্মরণ করতে চান না। এদেশের রাজনীতির ঘৃণ্য ইতিহাস একবারও উল্লেখ করতে চান না। ১৫ অগাস্ট, ২১ অগাস্ট ও ৩ নভেম্বর ভুলেও উচ্চারিত হয় না তাদের মুখে। সম্প্রতি ভারতের বহুল প্রচারিত ইংরেজি সাপ্তাহিক ইন্ডিয়া টুডের এক নিবন্ধে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্র ধর্ম নিরপেক্ষতা সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনাকে একমাত্র ভরসা উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধে, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মত মর্মান্তিক ঘটনা  থেকে বিরোধীদের সমালোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধে বিএনপি-জামায়াত  জোটের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে এই  লেখায়। পঁচাত্তরপরবর্তী সরকারগুলোর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের খুনিদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ গড়ে ওঠে।

শুধুমাত্র আমরা নই, সারা দুনিয়া জানে, ৭৫-পরবর্তী শেখ হাসিনাকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উধাও হয়ে গিয়েছিল। কাজেই  শেখ হাসিনার ফেরা মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ ফেরা। তিনি দেশে ফিরেছিলেন স্বজন হারানো বাংলাদেশে। সেদিন এদেশের জনগণ আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া  শেখ হাসিনার পাশে কেউ ছিল না। তিনি যদি হাল না ধরতেন ’৮১ সালে তাহলে এদেশে মিলিটারি শাসন যুগ যুগ ধরে থাকতো। বঙ্গবন্ধু শোষণমুক্ত সমাজ সৃষ্টির জন্য সংগ্রাম করে  গেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন। আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা শোষিতদের  নেত্রী হিসাবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। করোনা মহামারি  মোকাবিলার সফলতায় ‘ভ্যাকসিন হিরো’ খেতাব অর্জন, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্প গ্রহণ করে ঘরহীন মানুষকে ঘর দিয়েছেন। ভূমিহীনকে ভূমি ও ঘর দিয়েছেন, আরো দেবেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। অসংখ্য টিভি চ্যানেল এবং দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মেধা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে  তাকে পরিচিত করেছে এক সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে, সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আইসিটিতে আমাদের নানামুখি অর্জন। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। উন্নত বাংলাদেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশ এগিয়ে চলছে। 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এক তরুণ নেতা। আন্তরিক চেষ্টা ও মেধা দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করে চলছেন।  চোখ বন্ধ করে স্বীকার করতে হয়, অনলাইন ব্যাংকিং, ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার ও এটিএম কার্ড ব্যবহারে  দেশে ই-কমার্সেরও ব্যাপক প্রসার ঘটছে। ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের ই-কমার্সের আকার ছিল আট হাজার ৫০০  কোটি টাকা। করোনা মহামারিতে এই আকার দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী ২০২৩ সাল নাগাদ, বাংলাদেশের ই-কমার্সের বাজার ২৫ হাজার  কোটিতে  পৌঁছাতে পারে বলে একবার প্রতিমন্ত্রী পলক জানিয়েছিলেন দৃঢ়তার সঙ্গে। ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেকচার সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরে দেশ আজ উন্নয়নশীল ও প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ।

কিন্তু এই পরিষ্কার  সত্য ও অগ্রগতি বিএনপি-জামায়াত দেখে না। আমাদের রাজনীতিতে বিরোধী দলের কিছু নেতার কথায় হাসছে মানুষ। এতো মিথ্যাচার কী মানুষ সহ্য করবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, ‘আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল সাহেব ও তার চিন্তার সমমানের রাজনৈতিক নেতারা ‘গণতন্ত্র’ নিয়ে  হাঁ-হুতাশ করছেন। এখন তারা গণতন্ত্রের জন্য চোখের জল ফেলে ভাসিয়ে দিচ্ছেন।মায়াকান্না করছেন। অতীতে তারা গণতন্ত্র, মানবিকতা, সুশাসন, সুবিচারের ছিটেফোঁটাও  দিতে পারেননি। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় ইনিয়ে-বিনিয়ে যারা কলাম লিখেন বা টকশোতে যারা গলা শুকিয়ে ফেলেন তারা কারা? আসলে, গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপির কখনো দেখা হয়নি। কারণ, বিএনপি নামের দলটির জন্মই নিয়েছিল অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অস্ত্রের মুখে রাজনীতিবিদদের চরিত্র হরণ করা ছিল এদের পূর্বসুরি নেতাদের  কাজ। বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্র হত্যার খেলায় মজেছিলেন দলটির নেতা। আর এখন  যারা মানবিকতার দোহাই তুলে জিগির করছেন তারা কারা? আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতার বাইরে  ছিল আর  বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন মানবিকতা কোথায় ছিল? তখন আইনের শাসন, গণতন্ত্র, সুবিচার কোথায় ছিল? তাই তারা খারাপ করেছে বলে আওয়ামী লীগও খারাপ করছে এটা কিন্তু মনে করছে না জনগণ। 

আজকের বাংলাদেশের পদ্মা সেতু একসময় তো চিন্তার বাইরে ছিল। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে অগ্রগতি, উন্নয়ন আর গণমানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন যারা চোখে দেখে না তারা গণতন্ত্র খুঁজে পাবে কীভাবে?  একজন মানুষ কতটা অমানবিক হলে রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ দিবসে ভুয়া জন্মদিনের উৎসব করেন। ১৫ আগস্টের ভুয়া জন্মদিন পালন ছিল নিষ্ঠুর রসিকতা ।  

সবাই জানেন তবুও কিছু বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন ডিপ্লোম্যাট। ২০০৫-এর ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বজারে এক জনসভায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা  গ্রেনেড হামলা চালায়। একইসাথে নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হন তিনি। হবিগঞ্জে চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল অপ্রতুল। তখন সরকারের কাছে একটি  হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থায় তাঁকে ঢাকায়  নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু খালেদা জিয়া  হেলিকপ্টার দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। 

২০০১ এর অক্টোবরের নির্বাচনের পর সারাদেশে তাণ্ডব চালানো হয়। সেই ম্যানিপুলেটেড নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয় বিএনপি-জামায়াত।পর পরই বিএনপি-জামায়াত  জোট সরকার সারাদেশে তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগকে টার্গেট করে। হিন্দুদের বাড়িঘর দখল ও লুটপাট এবং ধর্ষণ আর খুন চলে একের পর এক। কারণ, হিন্দুরা নৌকায় ভোট দেয়।

দেশের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ইতিহাসে এটি একটি নৃশংস অধ্যায়। জাতির সামনে ছিল ভয়াবহ নিষ্টুরতা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং ভোটারদেরকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য সশস্ত্র হামলা, আক্রমণ, লুটপাট,  দেশত্যাগে বাধ্য করা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। 

মির্জা ফখরুল  গেল বছর হঠাৎ বলে উঠলেন খালেদা জিয়া নাকি দেশের ‘প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা’। অথচ সারা দুনিয়া জানে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানান। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আদালত কর্তৃক  দোষী সাব্যস্ত হওয়া দেশবিরোধী সংগঠন জামায়াত এবং দলের  নেতাদেরও মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। উপদেষ্টা করেছিলেন। খালেদা জিয়ার আশীর্বাদে  জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদেরকে জাতীয় সংসদে বসিয়ে পবিত্র সংসদের অবমাননা করেছিলেন। এদেশের জনগণ তা ভুলে যায়নি।  

১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন শপথ নেন তখন খালেদা জিয়ার  সামনে সুযোগ এসেছিল  কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইনটি বাতিল করার। কিন্তু খালেদা জিয়া কালো আইনের পক্ষে অবস্থান নেন।

ভয়ংকর গ্রেনেড হামলার কথা কী ভুলবার। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল বিএনপি-জামায়াতের একটি মাস্টারপ্ল্যান। খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। খালেদা জিয়া এই  গ্রেনেড হামলার পর  দুঃখ প্রকাশ করেননি বরং তৎকালীন বিরোধী দলের  নেতা  শেখ হাসিনা ‘ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন’ বলে এক উদ্ভট, অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছিলেন তিনি । কী রকম ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা ছিলো এটি যা সারাবিশ্বে আলোচিত ও নিন্দিত। আওয়ামী লীগকে  নেতৃত্বশূন্য করা এবং শেখ হাসিনাকে চিরতরে  শেষ করে  দেয়ার জন্য গ্রেনেড হামলার এই  ঘৃণ্য ঘটনা হয়েছিল। ’১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়  আর ২০০৪-এর ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে চিরতরে শেষ করে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। আমি প্রশ্ন করতে চাই,  তখন গণতন্ত্র, মানবতা, সুশাসন, সুবিচার কোথায় ছিল?

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট  ও কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়