শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০১:৪৪ রাত
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০১:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চার সপ্তাহের মতো অন্তর্ধান থাকলেন কেন? 

ইমতিয়াজ মাহমুদ

ইমতিয়াজ মাহমুদ: রহিমা বেগম ফেরত এসেছেন। তাঁর কন্যা মরিয়ম মান্নানকে অনেকেই চেনেন, ফেসবুকে, খবরের কাগজে ও টেলিভিশনে রহিমার নিরুদ্দেশ হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাঝখানে ভুল করে আরেকজনের মৃতদেহকে রহিমার মেয়ে নিজের মা পরিচয়ে সনাক্ত করায় একটু নাটক হয়েছিল। সেগুলো যাইই হোক, রহিমা ফেরত এসেছেন, শান্তি হয়েছে, এখন তিনি সন্তান নিয়ে শান্তিতে বসবাস করুন। পুলিশ নিশ্চয়ই এর মধ্যে একটা প্রতিবেদন দিবে, আদালতকে জানাবে রহিমা কেন কীভাবে কোথায় এতদিন নিখোঁজ হয়ে ছিলেন। সেই রিপোর্ট বিশ্বাসযোগ্য হতেও পারে, আবার না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তবুও পুলিশ যখন সেই প্রতিবেদনটা দিবে, সেটা সম্পর্কে জানার কৌতূহল আছে। 

গুম একটা সমস্যা আমাদের এখানে। গত এক দশকে গুম হয়ে যাওয়া বা পুলিশ ইত্যাদি বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সব গুম খবরে আসে না। সত্যি কিনা জানি না, আমি বেশ কিছু কম বয়সী ছেলেমেয়ের কথা শুনেছি, ওদের সরকারের কোনো না কোনো বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে আবার কিছুদিন পর ফেরত দিয়েছে। বাবা-মা ওদের সন্তানকে ফেরত পেতে চায়, এসব তুলে যাওয়া নিয়ে কোনোরকম হট্টগোল করে সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না। বয়স্ক ব্যবসায়ীর কথা শুনেছি, কারা যেন তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই তিনমাস আটকে রেখেছিল। তিনি ফেরত এসেছেন বটে, কিন্তু কারা নিয়েছে কোথায় আটকে রেখেছিল এই নিয়ে কিছু বলেন না। আর কিছু গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবারের লোকেরা ওদের স্বজনকে ফেরত পাওয়ার জন্যে কতোকিছু করছেন সেকথা তো আমরা জানি। সরকারি বাহিনী যদি কাউকে অবৈধভাবে তুলে নিয়ে যায় সেটা অন্যায়, গুরুতর অন্যায়। সরকার এটা জানে, বাহিনীগুলোও এটা জানে। ওরা প্রাণপণে অস্বীকার করে- না আমরা কাউকে নিয়ে যাইনি ইত্যাদি। তাছাড়া গুম করার ঝামেলা অনেক, খরচও আছে। পুলিশ হোক আর মিলিটারি হোক বা যেইই হোক, একটা মানুষকে দিনের পর দিন লুকিয়ে রাখা সোজা কাজ নয়। এই কারণে সরকারি বাহিনী নিতান্ত গুরুত্বহীন কাউকে এমনিই খেয়ালের বসে অনানুষ্ঠানিকভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা না। আমি যতটুকু জানি রহিমা বেগম রাজনৈতিক বা ব্যবসায় বাণিজ্য বা অন্য কোনোভাবেই সেরকম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ নন, বা তাঁর সম্পর্কে যা শুনলাম এ কয়দিন, সরকার তাঁকে গুম করে ফেলতে চাইবে এমন কোন বৈশিষ্ট্য রহিমার নাই। আমার মনে হয় না তাঁকে সরকার বা পুলিশের লোক গুম করেছিল বা তুলে নিয়েছিল। তাঁর কন্যাও সেরকম কোনো ইঙ্গিত দেননি। 

তাইলে এই যে তিনি চার সপ্তাহের মতো অন্তর্ধান থাকলেন, এটা কেন থাকলেন? তাঁকে কি কেউ জোর করেছে? তিনি কি ইচ্ছে করে লুকিয়ে ছিলেন? মান অভিমান করে চলে গিয়েছিলেন? ৫২ বছর বয়সের একজন নারী- ৫২ এমন কোনো বেশি বয়স না, তসলিমা নাসরিন বা মাধুরী দীক্ষিতের চেয়ে কম বয়স- তিনি কেন এইরকম হঠাৎ করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন, জানতে কৌতূহল হয় বৈকি। ফেসবুকে আমার বন্ধুরা অনেকেই রহিমার কন্যা মরিয়ম মান্নানকে চেনেন। আমার সাথে ফেসবুকে বা অন্য কোনোভাবে তার পরিচয় নাই বা সংযোগ নাই। একজন মরিয়ম মান্নান আমার ফ্রেন্ডলিস্টে ছিলেন, শতাধিক মিউচ্যুয়াল ফ্রেন্ডও ছিল। কিছুদিন আগে জন্মদিনের নোটিশ দেখে সেই আইডিতে গিয়ে কেন যেন মনে হলো সেটা ফেইক আইডি হতে পারে, দিয়েছি আনফ্রেন্ড করে। এখন দেখছি লোকে মেয়েটাকে খুব নিন্দা করছে। এইটাও বোধহয় ঠিক না। কারো মা হঠাৎ করে যদি হারিয়ে যায় তাইলে লোকে কিরকম আচরণ করবে সেটা তো আর নিয়ম ঠিক করে বলে দেওয়া যায় না। দিশেহারা একটা মেয়ে, মায়ের জন্যে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, ব্যাকুল। সেই অবস্থায় তার আচরণ ধরে তাকে নিন্দা করা মনে হয় ঠিক না। নিজের মাকে লুকিয়ে রেখে কেউ কৃত্রিম শোক উদ্বেগ এসব এইভাবে করবে বলে আমার মনে হয় না। না, এই পুরো অধ্যায়টাই কৌতূহল জাগানিয়া। একজন নারী হঠাৎ নাই হয়ে যাবে, চার সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর ফেরত আসবে, এটার পেছনে নাটকীয় কোন ব্যাপার থাকতে পারে। অপরাধের সংযোগ বা সংশ্লিষ্টতাও থাকতে পারে। আবার হাস্যকর রকমের সরল কোন ঘটনাও হতে পারে- হয়তো স্বামীর সাথে বা বাচ্চাদের সাথে রাগ করে চলে গেছে, পরে ফেরত এসেছে বা পুলিশ খুঁজে বের করে ফেলেছে। এরকম তো হতেই পারে। এইগুলো যদি জানা যায় তাইলে তো খুবই ভালো। আর একদম জানা না গেলেও পরিবারটিকে আমি শান্তিতে থাকতে দেওয়ার পক্ষে। ওরা যদি জনসমক্ষে ঘটনাবলী প্রকাশ করতে না চায় সেটাও তো বোধগম্য আরকি। 

মোদ্দা কথা হচ্ছে, ছাড়ুন। রহিমা বেগমের কন্যা মরিয়ম মান্নানকে খোঁচা দিয়ে নানা কথা বলে কি লাভ? কৌতূহল আমারও আছে, কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পক্ষপাতী। ঘটনার পেছনে যদি কোন নাটক থাকে কোন না কোনোভাবে নিশ্চয়ই সেটা প্রকাশিত হবে। উদ্বেগের ব্যাপারটা তো মিটেছে- রহিমা বাড়ি ফিরেছেন, তাঁকে গুম করা হয়নি বা তিনি নিহত হননি। এইটা তো স্বস্তির ব্যাপার। রহিমা এবং তাঁর সন্তানেরা ভাল থাকুন, শান্তিতে থাকুন। শুভ কামনা করি। আর তো কিছু বলার দেখি না। বরং ইরানে কি হচ্ছে সেটার দিকে লক্ষ্য রাখুন। আর আমাদের এখানেও মোল্লা মিয়াসাবরা এবং ওদের অনুসারীরা নারীর প্রতি যে নিত্যনতুন যেসব আক্রমণ শানাচ্ছে সেগুলির দিকে চোখ রাখুন। সম্মুখে বিশাল সংগ্রাম, অনেক বড় লড়াই আছে। লেখক: আইনজীবী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়