শিরোনাম
◈ ভাইভা হলেও তদন্তের আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ হবে না ◈ ভাষণে নয়, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দেশ স্বাধীন হয়েছে: গয়েশ্বর রায় ◈ একশ ভাগ সফলতা নিয়েই বাংলাদেশে ফিরছি: ডিবি প্রধান  ◈ বাংলাদেশ আইএমও’র মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মেরিন স্কলারশিপ চালু করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী ◈ ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মনজুর হোসেন মারা গেছেন ◈ ঈদে সাধারণ মানুষের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া  না নেওয়ার নির্দেশ ওবায়দুল কাদেরের  ◈ জামানত হারালেন ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ◈ দেশ এখন দুর্বৃত্ত ও মাফিয়াদের দখলে: মির্জা ফখরুল ◈ জনগণ ও দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ আন্তরিকভাবে নিবেদিত: প্রধানমন্ত্রী ◈ রোহিঙ্গাদের অনিরাপদ স্থানে পাঠানোর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থান

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ০৩:১৩ রাত
আপডেট : ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ০৩:১৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিএনপির  উপজেলা নির্বাচন বয়কট, সরকার কেন উদ্বেগে?

মাসুদ  কামাল

মাসুদ  কামাল: আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। বিএনপি যে নির্বাচনে অংশ নিবে না, এটা পূর্বনির্ধারিত। গত সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিলো যে, তারা আওয়ামী লীগের সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিবে না। মাঝে শুনলাম জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকে বলেছিলো, কিছু কিছু নির্বাচনে, যেসব জায়গায় তাদের সম্ভাবনাময় প্রার্থী আছে সে জায়গায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু তারপরে আবার শুনলাম যে, তারা কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। বিগত মেয়র নির্বাচনের সময় ইসলামী আন্দোলন নামে যে প্রোটোকল পার্টি আছে, তারাও ঘোষণা দিয়েছিলো যে, তারাও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। কেন তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। কারণ তারা সকলেই বলেছেন, এ সরকারের অধীনে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিবার নির্বাচনের সময় আওয়মী লীগের নেতারা বলতে থাকেন যে, বিএনপির অনেকেই নাকি তলে তলে র্নিাচনে অংশ নিবে। 
বিগত সংসদ নির্বাচনের সময় হাসান মাহমুদ এবং ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অনেক বিএনপি নেতারা তলে তলে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অবশ্য দু’একজন বিএনপির নেতাদের দলে নিতে পেরেছিলেন তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং দল থেকে তাদের পরবর্তী সময়ে দল থেকে বহিঃষ্কৃত করা হয়েছে। অনেকে আবার আওয়ামী লীগে জয়েন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেন। আমরা যদি শাজাহান ওমরের কথা বলি, উনি বিএনপির কোনো নেতা ছিলেন না। তিনি আওয়ামী লীগে জয়েন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা প্রচার করে থাকেন যে, বিএপির নেতারা নাকি তলে তলে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তাদের কথার কোনো বাস্তবতা দেখা যায়নি এবং তারাও দেখাতে পারেনি নির্বাচনে কোনো বিএনপির নেতার অংশগ্রহণ। গত মঙ্গলবার ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে বলেছেন যে, বিএনপির অনেকে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু উনি এখনো বলতে পারেননি যে কারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন যে, ‘বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে বিরোধীতা করলো প্রকাশ্যে তবে, আমাদের জানা মতে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন’। অথচ সোমবার রাতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘোষণা করেছেন তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। 
প্রথম আলোর একটি শিরোনাম দেখলাম সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘শেষ সময়ের সিদ্ধান্তে অস্বস্তি বিএনপিতে’। অর্থাৎ, ‘শেষ সময়ে এসে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিবে না, যার ফলে প্রায় অর্ধশত উপজেলার নেতা রয়েছে তারা অলরেডি অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলো। তারা নাকি বেশ ঝামেলায় আছে এবং অস্বস্তিতে আছেন। এছাড়াও নেতাদের নির্বাচন থেকে ফেরানো নিয়ে নীতিনির্ধারকরাও ঝামেলায় আছেন।’ প্রথম আলো আরো লিখেছে, ‘তাদের হিসেব মতে, কমপক্ষে ৪৫ জন নেতা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পদপ্রার্থী ছিলেন।
আমরা  শুরু থেকেই শুনে আসছি যে, বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো প্রকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আমি এ ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝলাম না বিএনপি তাহলে শেষ সময়ে এসে সিদ্ধান্ত নিবে কেন? আলাদা করে উপজেলা নির্বাচনের কথা আসবে কেন? এ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তো আর বিএনপি ক্ষমতায় যেতেও পারবে না। যে দল ক্ষমতায় থাকার নির্বাচন অর্থাৎ, জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে সে দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কোন যুক্তিতে? যদি বিএনপি যায় তাহলে বিএনপি কী আওয়ামী লীগের কথার তোপ সহ্য করে টিকে থাকতে পারবে? তবে সেক্ষেত্রে বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাবে এবং শেষ সময়ে এসে সিদ্ধান্ত পাল্টেছে এমন ধারণা আসে কীভাবে? বিএনপি শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত  নেয়নি তারা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো যে, তারা নির্বাচনে যাবে না। তাহলে এতো আলোচনা সমালোচনা করে কথা প্যাঁচানোর কী হলো? অনেকে বলবেন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত ছিলো। কারণ এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এতে অংশ না নিলে স্থানীয় রাজনৈতিকের মান থাকে না, নানান কথা বলে থাকেন। এসব কথা অনেকটা সত্য, এর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিপত্বের সংযোগ আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিএনপি যে কারণে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রইলো। কারণ তারা মনে করে আওয়মী লীগের সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। অতএব এ ধারণা আছে বলেই তারা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এমনকি গত সংসদ নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে সরকার যাকে নির্বাচনে আনতে চায় তাকে এনেছে।
জাতীয় দলের জিএম কাদের সরাসরি বলেছেন যে, সরকার যাকে নির্বাচিত করতে চায় এবং চেয়েছে তারাই নির্বাচিত হয়েছে। তাহলে কেন বিএনপিকে উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণে এতো হাহাকার করতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যখন বিএনপি সংসদ নির্বাচনকে বয়কট করলো তারপর কোনো নির্বাচনে যাওয়া বিএনপির কাছে অযৌক্তিক এটা পরিষ্কার কথা। অনেকেই বলবে, আপনি নির্বাচনে অংশ নেন, আপনি ভোট দিতে পারছেন না, অথবা আপনার লোক ভোট দিতে পারছে না এ নিয়ে আন্দোলন করে লোকজনকে দেখাতে পারবেন সেটার যুক্তি আছে। কিন্তু যে যুক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রয়োগ করেনি, তাহলে উপজেলা নির্বাচনে তা প্রয়োগ করলে অযৌক্তিক। অথবা বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নিতো তাহলে বলবো এ বিষয়টা তাদের জন্য আত্মহত্যা করার সমান হতো। আমি মনে করি বিএনপি তাদের রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। যারা এ বিষয়গুলো নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করছেন তারা আসলে একটা মতলব থেকে এ কাজগুলো করছেন। বলা হচ্ছে যে ৪৫ জন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের সকলেই কী বিএনপির নেতা কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমি মনে করি এভাবেই নানা রকম ধুম্রজালের সৃষ্টি হতেই থাকবে এ পরিস্থিতিতে দলীয় সিদ্ধান্ত কতোটুকু অটুট থাকতে পারবে এটাই, কিন্তু নির্ধারণ করে দিবে যে দলটি নৈতিকভাবে কতোটা শক্তিশালী। আমার মনে হয় যারা বিএনপির অসর্মথক আছেন তারাও বিএনপির এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের সম্মান জানবেন। পরিচিতি: সিনিয়র সাংবাদিক। সূত্র: কথা ফেসবুক পেজের রাজনীতির কথা অনুষ্ঠানের ভিডিও কন্টেন্ট  শ্রুতিলিখন করেছেন রুদ্রাক্ষী আকরাম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়