শিরোনাম
◈ থাইল্যান্ডে ‘সয়েল ফিভারে’ ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭০ জন ◈ এবার বাংলাদেশের দুর্গাপূজার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন, বললেন ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’ ◈ সৌদি আরবে হামলার পর ফের ফ্লাইট বাতিল বিমানের, দাম্মাম ২৫ ও রিয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ◈ রিয়াদ থেকে দাম্মাম বিমানবন্দর ও আরামকো, সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার দাবি হুথিদের ◈ তিতাসে ৫৯২ কোটি টাকায় নতুন দুই গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস ◈ মিয়ানমারের মাদক সাম্রাজ্যের ভয়ংকর থাবায় বাংলাদেশ ◈ অমিত শাহর যে আদেশের কারণে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ! ◈ ৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল : পূজা আর কার্নিভাল ঘিরে সৈকতে পর্যটকদের ঢল ◈ অভিষেক ম্যাচেই আলিস আল ইসলা‌মের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ ◈ সুন্দরবনের ৫ প্রজাতির মাছ ও ২ প্রজাতির চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স যাচ্ছে আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে

প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২২, ০৫:০৩ বিকাল
আপডেট : ২১ মে, ২০২২, ০৭:৫৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিএসএমএমইউতে ন্যাসভ্যাকের নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

বিএসএমএমইউ

ভূঁইয়া আশিক রহমান: [২] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগে ন্যাসভ্যাকের নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে আজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রায়ালটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার উপর গুরুত্ব আরোপ করে এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি এমন বিশ্বমানের গবেষকদের প্রশংসা করেন ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় নেতৃত্ব দিবে। 

[৩] অনুষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালটির প্রধান গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের ডিভিশন প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ট্রায়ালটি সম্বন্ধে সবাইকে অবহিত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও ন্যাসভ্যাকের অন্যতম উদ্ভাবক ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর, লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ নূর-ই-আলম (ডিউ), বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মাহমুদুল হক পল্লব এবং ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হেলার উদ্দীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুর রহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আইয়ুব আল মামুন।

[৪] বাংলাদেশে উদ্ভাবিত প্রথম ওষুধ ন্যাসভ্যাক যা বাংলাদেশে উৎপাদনের জন্য এরই মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। আশা করা যায় শীঘ্রই বাংলাদেশের হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের আক্রান্ত রোগীরা ন্যাসভ্যাক ব্যবহার করে সুফল পাবেন। এরই মধ্যে অবশ্য কিউবাসহ বিশ্বের একাধিক দেশে ন্যাসভ্যাক ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাপানের একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত রোগীদের উপর ন্যাসভ্যাকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে এবং এরই মধ্যে এর সুফলও পাওয়া যেতে শুরু করেছে। 

[৫] বাংলাদেশে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের নেতৃত্বে ন্যাসভ্যাকের ফেইজ-১, ২ ও ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। যা পরবর্তী সময় হেপাটোলজি ইন্টারন্যাশনাল প্লস ওয়ানের মতো খ্যাতিসম্পন্ন আর্ন্তজাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি প্যাথোজেন্স এবং ভ্যাকসিন্স নামক দুটি শীর্ষ বৈজ্ঞানিক জার্নালে ন্যাসভ্যাকের ২ ও ৩ বছরের ফলোআপ ডাটাও প্রকাশিত হয়েছে। এ সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, লিভার সিরোসিস প্রতিরোধে ন্যাসভ্যাক অন্যতম কার্যকর ওষুধ। 

[৬] ন্যাসভ্যাক একটি ইমিউন থেরাপি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ও লিভার রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ন্যাসভ্যাকই পৃথিবীর প্রথম ইমিউন থেরাপি যা হেপাটাইটিস বি তথা যেকোনো ক্রনিক ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ও নিরাপদ হিসেবে প্রথমবারের মতো একটি ফেইজ ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ন্যাসভ্যাকই ক্রনিক ইনফেকশনরে বিরুদ্ধে কার্যকর পৃথিবীর প্রথম ইনিউন থেরাপি যা দুই এবং তিন বছরের ফলোআপেও নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখ্য ন্যাসভ্যাক ভারত এবং চীনের মতো দেশকে ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশ এই অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে নিজ দেশে নিজস্ব উদ্ভাবিত ওষুধ অনুমোদনের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছে। 

[৭] বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগে ন্যাসভ্যাকের যে নতুন ট্রায়লটি শুরু হতে যাচ্ছে তাতে প্রধান গবেষক হিসেবে থাকছেন অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) আর ট্রায়ালটির এডভাইজার হিসেবে সংযুক্ত থাকবেন ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর। অতীতে যে সমস্ত রোগী হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের এন্টিভাইরাল ওষুধ গ্রহণ করেছেন তাদের উপর ন্যাসভ্যাকের কার্যকারিতা যাচাই করার পাশাপাশি তাদের আরও কার্যকর চিকিৎসার আওতায় আনার জন্যই এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালটির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

[৮] ন্যাসভ্যাক নিয়ে গবেষণার জন্য ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর ও অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ২০১৯ সালে যৌথভাবে কিউবান একাডেমি অব সাইসেন্স কর্তৃক দেশটির সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক সম্মাননা ‘প্রিমিও ন্যাশনাল’ পদক অর্জন করেন আর ২০২১ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স অধ্যাপক স্বপ্নীলকে ‘বাস গোল্ড মেডেল’এওয়ার্ড প্রদান করেছে।

  • সর্বশেষ