শিরোনাম
◈ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ পাঠ্যবই, বদলাবে শিখনপদ্ধতি ◈ লন্ডন হাইকমিশন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ভিসা সার্ভার নিয়ে সতর্কবার্তা ◈ পঞ্চগড়ে এক টাকায় চারটি লাউ, ২ টাকায় ১ কেজি পেঁপে; উৎপাদন খরচ না পেয়ে গাছ কাটছেন কৃষক ◈ উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লালমাই পাহাড় কাটা, হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও জীববৈচিত্র্য ◈ দেশে গ্যাস উৎপাদনে বড় ধস, এক বছরে কমেছে ৬৮ বিলিয়ন ঘনফুট: এলএনজি আমদানিনির্ভরতা বাড়ার শঙ্কা ◈ আ‌মে‌রিকা হামলা কর‌লে উপসাগরজুড়ে পাল্টা আঘাতের পরিধি বাড়াবে ইরান: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতি‌বেদন ◈ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের ◈ দুই মাস আগে আপত্তি, এখন ফিফা সভাপ‌তি ইনফান্তিনোর পাশে এএফসি  ◈ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ বিতর্ক কেন, বিএনপি-জামায়াতের বিরোধে বাড়ছে অবিশ্বাস? ◈ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রূপ নিতে পারে, বাংলাদেশে বৃষ্টির আভাস

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৭:০৩ সকাল
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০২:৫১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আজ সচিব সভা

আনিস তপন: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে রয়েছে নিকার সভা। এরপর বেলা ১টায় অনুষ্ঠিত হবে সচিব সভা। করোনার কারণে তিন বছর পর সশরীরে এই সভা হচ্ছে। এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সব সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা শেষে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত রাখা, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজন সাপেক্ষে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারের যোগান নিশ্চিতকরণ, পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসা, সরকারি কাজের আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করা, সরকারি সেবা প্রদানে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ক পরিকল্পনা, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, বন্যা ও প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতির পর্যালোচনা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি বিষয়ক, সুশাসন ও শুদ্ধাচার বিষয়সহ অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানাবে, তাদের নেয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎস্য থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৪৮৫ মে. টন, বিদেশ থেকে নভেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত এক লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ মে. টন চাল ও এক লাখ ৭৪ হাজার ৮৯ মে. টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত সরকারি খাদ্য গুদামে বর্তমানে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সর্বমোট ১৬ লক্ষ ১৪ হাজার মে. টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ৯৪ হাজার মে. টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন খাদ্য গুদাম মেরামত, এক হাজার মে. টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৭০টি ও ৫০০ মে. টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ২০০৯ সালে দেশের খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা ১৪ লাখ মে. টন থেকে ২০২১ সালে ২২ লক্ষ ৭২০ হাজারমে. টনে উন্নীত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা ৩৭ লাখ মে. টনে উন্নীত করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

১৪ নভেম্বর পর্যন্ত অতিদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যবান্ধব এবং ওএমএস কর্মসূচি মোট নয় লাক্ষ ৯৩ হাজার ২২৮ মে. টন চাল ও গম বিতরণ করা হয়েছে। এ কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইতোমধ্যে তিনটি বিধি এবং ১১টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। খাদ্য ও সেবার মান বৃদ্ধিতে হোটেল-রেস্তোরার গ্রেডিং পদ্ধতি চাল, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের হটলাইন সেবা ৩৩৩ চালু, ১৬৪টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এক কোটি ৯১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড ও ১৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দুই হাজার ৬২৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নয় হাজার ৪৭১টি মামলা দায়েরসহ তিন কোটি ৪০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৮৮ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় বিদ্যমান সংকটজনক পরিস্থিতি বিবেচনায় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৪টি কৃষি অঞ্চলে কর্মশালার আয়োজন করে। প্রচলিত জাত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবিত অতি উচ্চ ফলনশীল, প্রতিকূলতাসহিষ্ণু এবং হাইব্রিড ফসলের আবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক সময়ে বোরো, আমন ও আউশসহ অন্যান্য ফসলের বপন, রোপন ও সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাসহ মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও সেচ সরবরাহ অব্যাহত রাখা, ভূট্টার উৎপাদন বৃদ্ধি ও বহুমূখি ব্যবহার বৃদ্ধি করা, সারাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে সেচসুবিধা প্রদান ও মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ, বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতিগন ভিন্নতা বিবেচনায় ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করাসহ আম, পেয়াঁরা, কুল, কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন উদ্যানভিত্তিক ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত প্রায় ১৭৬টি প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে।

এছাড়াও প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারণ, প্রদর্শনীর জন্য ৭০ কোটি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বিশেষ বিশেষ ফসল চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে সারাদেশের ১০ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবে।  গত অর্থ বছরে ২৫ লক্ষ কৃষকের মাঝে ২০ হাজার ১৮২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সকল পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি ইউনিয়নে ১০০টি করে মোট চাল লক্ষ ৮৮ হাজার ৪০০টি পারিবারিক সবজি বাগান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার ৩৮২ হেক্টর পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এসছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানাবে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চলতি অর্থ বছরের (অক্টোবর ২০২২) পর্যন্ত কাবিখা-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় প্রথম কিস্তিতে পাঁচশত কোটি টাকা, ছেষট্টি হাজার ছয় শত ছেষট্টি মে. টন চাল ও গম, গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় চার শত তিরাশি কোটি তেত্রিশ লক্ষ টাকা, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’র আওতায় প্রথম পর্যায়ে সারাদেশের ৩৪০টি উপজেলায় আটশত সাত কোটি তিপ্পান্ন লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা, ত্রাণ কার্যক্রম (নগদ) ছয় কোটি ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ কার্য়ক্রমের আওতায় চাল ৩৫ হাজার ৯২৫ মে .টন,  ত্রাণ কার্য (কর্মসূচি) ২২ হাজার ৫৫৯ বাণ্ডিল ঢেউটিন, শুকনা খাবার ৮৮ হাজার ৬৮৪ ব্যাগ/বস্তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, বন্যা ও প্রকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাকাবেলায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ পয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সংকট মোকাবেলায় অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সচিব সভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে জানাবে, বৈশি^ক প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। বর্তমানে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট মুল্যস্ফীতির চলমান ঊর্ধ্বমূখী প্রবণতা প্রশমিত করতে নীতিসুদ হার হিসেবে বিবেচিত রেপো সুদ হার চার দশমিক ৭৫ শতাাংশ (২৯ মে) থেকে তিন ধাপে যথাক্রমে ২৫, ৫০ ও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে পাঁচ শতাাংশ, পাঁচ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পাঁচ দশমিক ৭৫ শাতাংশে পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিলাস জাতীয় বা অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলস