বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে আরও ব্রিটিশ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সংলাপের আয়োজন করেছে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন।
বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিমান চলাচল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে।
সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাজ্য বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা এবং ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চায়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদাহরণ হিসেবে ব্রিটিশ-সমর্থিত পর্যটন ও আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠান মানা বে-এর কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে টেক্সটাইল ব্যবসার মাধ্যমে দুই দশকেরও বেশি আগে যাত্রা শুরু করা এই পরিবারের ব্যবসা বর্তমানে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে সম্প্রসারিত হয়েছে।
মানা বে-এর পর্যটন প্রকল্পে এ পর্যন্ত ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মানা বে ওয়াটার পার্কের পাশাপাশি সম্প্রতি ৯৫ কক্ষের মানা বে রিসোর্টের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।
মানা বে-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শশীন হাসান বলেন, বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ দেশের ভবিষ্যৎ এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের বিপুল সম্ভাবনার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
ব্রিটিশ মালিকানাধীন বৈশ্বিক হসপিটালিটি কোম্পানি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের (আইএইচজি) দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বানি নায়ার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন সংযোগ জোরদারে আইএইচজি উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা দেখছে।
অশ্বানি নায়ার বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের পরবর্তী ধাপের বিকাশে আইএইচজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নতুন বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নতুন পর্যটন অবকাঠামো এ খাতের বিকাশে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় খাবারের কারণে দেশটিতে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।