আলোচিত চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের পরামর্শে ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করা হয়।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে কমিটির আহ্বায়ক এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণ করা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদসহ ওই বিভাগের চিকিৎসকদের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে তিনি ‘হেলথ রেভুলেশন লিমিটেড’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ডা. জাহাঙ্গীর কবির রোগীর ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর রোগীর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে (DKA) আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান।
তবে রোগীর মৃত্যুর সঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বা তার প্রতিষ্ঠানের পরামর্শের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়টিই তদন্ত কমিটি যাচাই করবে।
এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর আফতাবনগরে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের মালিকানাধীন ‘জে কে লাইফ স্টাইল’ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। অভিযানে আমদানিকারকের স্টিকার ছাড়া পণ্য বিক্রি এবং মোড়কে সঠিক তথ্য না থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। উৎস: ঢাকা পোষ্ট।