মনিরুল ইসলাম : আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন।
জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিরোধী দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিংসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও তারা সরব হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে, অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনসহ যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে এই আদেশ কার্যকর হয়েছে এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট এবং নজরদারি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, শেরেবাংলা নগর এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়। বিশেষ করে ফার্মগেট, বাংলামটর, বিজয় সরণি, শ্যামলী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আসন্ন অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উত্তেজনা বিরাজ করছে, তেমনি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।