মনিরুল ইসলাম : রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বন্ধনে আবদ্ধ দুই নেতার হাতে উঠেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থকে নতুন তথ্য মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি পূর্ববর্তী মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন ইয়াসির খান চৌধুরী।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে এই দুই নেতা এখন একসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। জানা গেছে, লন্ডনে বিবিসিতে কর্মরত থাকার সময় থেকেই ইয়াসির খান চৌধুরীর সঙ্গে আন্দালিভ রহমান পার্থর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় পার্থ সিনিয়র হলেও, তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া দৃঢ়।
শুধু ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিক সম্পর্কেও রয়েছে গভীর বন্ধন। আন্দালিভ রহমান পার্থর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু এবং ইয়াসির খান চৌধুরীর পিতা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাদের পরিবারের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ময়মনসিংহ-৯ (নন্দাইল) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একই আসন থেকে ইয়াসিরের চাচা খুররম খান চৌধুরীও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় থেকেই আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা ছিল বলে জানা গেছে। তখন তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। অবশেষে সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় তাকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই নেতৃত্ব তথ্য ও গণমাধ্যম খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ করবে। এরই মধ্যে সাবেক মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, “আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কাজ করছি। আমরা টিমওয়ার্কে বিশ্বাস করি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই দুই নেতার মধ্যে সমন্বয় ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তারা কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।