শিরোনাম
◈ বাংলাদেশি হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস অমিত শাহের ◈ ফিফার শা‌স্তির পর আর্জেন্টিনাকে নি‌য়ে স্পেনের গণমাধ্যমে উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার ◈ জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় না আনলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পেট্রাপোলে ◈ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন, হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ◈ সিলেটে তেলবাহী ট্যাংক লরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪ ◈ ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ◈ সমুদ্রের পাশে ২০০ হেক্টরের মেগা পার্ক, বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর ◈ দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা?

প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন খানকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগমকে।

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন—ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সঞ্জীপন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জ্যোতিময় জ্যোতি এবং নুপুর পাল (ডিআরএস)।

এর আগে ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কনিকা মন্ডল (৩৬) নামে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও দেড় মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রসবব্যথা শুরু হলে গত ২৯ জুন কনিকা মন্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক সংলগ্ন সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে বড় একটি সার্জিক্যাল গজ (মব) রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই তাঁর পেট ফুলে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তাঁরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জুলাই কনিকা মন্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ঘিরে এখন নজর রয়েছে নিহত কনিকার পরিবারসহ স্থানীয়দের। তবে এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় কার—তা প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়