শিরোনাম
◈ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভোট দেননি ৬ এমপি ◈ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কোথায়, কী কী সুবিধা পান তিনি? ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান ◈ প্রধানমন্ত্রী-বিরোধীদলীয় নেতার কোলাকুলি, রাজনৈতিক উত্তাপ ছাপিয়ে সৌহার্দ্যের বার্তা ◈ বিএনপির নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ◈ রোহিঙ্গা সংকটে পরিবেশ-অর্থনীতিতে বড় চাপ, বাড়ছে মাদক ও চোরাচালান: সেনাপ্রধান ◈ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, পেলেন ২৫৫ ভোট ◈ ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সরকারি কমিটি হালনাগাদের নির্দেশ ◈ সৌদি আরবের মক্কার আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া

প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:১৮ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঐকমত্যে ৭০ অনুচ্ছেদের ‘কবর’: চিফ হুইপের ঘোষণা

মনিরুল ইসলাম : সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ ভবিষ্যতে বিলোপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই অনুচ্ছেদের ‘কবর’ দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরও মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

আজ বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট সন্ধ্যায়  জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। উপস্থিত ছিলেন, হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ জাতীয় সংসদের  জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা 

চিফ হুইপ জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় বর্তমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই সংসদীয় কার্যক্রম ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়েছে। “এই অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা থাকায় আমরা তা মেনেই নির্বাচন পরিচালনা করেছি,” বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

সংবিধান সংশোধন না করে দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং আসন পুনর্নির্ধারণ—সবই সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংসদও সংবিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই আগামীতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করা হোক। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন আরও স্বাধীন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।”

গণতন্ত্রের চর্চা পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ কার্যকর ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

তিনি বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “হার-জিত জেনেও তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে—এটি গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পরাজিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে বিজয়ীকে অভিনন্দন জানানোর ঘটনাকে তিনি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভোটগ্রহণে ছয়জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে বিএনপির মির্জা আব্বাস, কামাল পাশা ও ড. ওসমান ফারুকসহ মোট ছয়জন সদস্য ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া খেলাফত মজলিসের আব্দুল হান্নান, স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা এবং গাজী নজরুল ইসলামও ভোটদানে বিরত ছিলেন।

সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার হলে দেশে সুশাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়